ফলহারিণী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র

4

ফলহারিণী অমাবস্যা এবং তন্ত্র শাস্ত্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

মানব জীবনে জন্মছক বিশ্লেষণ করলে অথবা হস্তরেখা বিচার করলে দেখা যায় অনেকেরই কিছু না কিছু গ্রহ গত সমস্যা আছে।সমস্যা থাকলে সমাধানও রয়েছে, তবে এই গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ তন্ত্র মতে শাস্ত্রীয় পদ্ধতিতে পূজো পাঠের মাধ্যমে গ্রহের প্রতিকার।

 

তন্ত্র প্রাচীন ভারতীয় সনাতনী ঐতিহ্যর আশীর্বাদ। এই তন্ত্র মূলত মানব কল্যাণের জন্যই সৃষ্টি হয়ে ছিলো। সঠিক তিথিতে সঠিক স্থানে সঠিক মন্ত্র উচ্চারনের মাধ্যমে গ্রহের অধীস্টাত্রী দেবীকে সন্তুষ্ট করে গ্রহের অশুভ প্রভাব নাশ করা হয়।

 

তন্ত্র মতে বা শাস্ত্র সম্মত ভাবে গ্রহ দোষ খণ্ডনের ক্ষেত্রে যে বিশেষ অমাবস্যা তিথি গুলি রয়েছে তার মধ্যে ফল হারিনী অমাবস্যা অন্যতম কারন এই অমাবস্যার অর্থাৎই হলো জন্ম জন্মান্তরের পাপের ফল থেকে মুক্তি লাভ|শাস্ত্র মতে এই সময়ে করা যেকোনো তন্ত্র ক্রিয়া বা গ্রহ দোষ খণ্ডনের উপাচারের ফলে দেবী কালীর কৃপা সহজেই লাভ করা যায় এবং তিনি সমস্ত গ্রুহ গত কুপ্রভাব ও তার খারাপ ফল হরণ করে নেন, তাই এই অমাবস্যা ফলহারিনী নামে পরিচিত।

 

মনে করা হয় ফল হারিণী অমাবস্যার চন্দ্রহীন রাত তন্ত্র শক্তির জাগরণের শ্রেষ্ঠ সময়। এই থিতিকে দশ মহা বিদ্যার পূজা বিশেষ ফল দায়ী। জ্যোতিষ শাস্ত্রে এই দশ মহা বিদ্যার সাথে গ্রহদের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে।

 

একটা সময় ছিলো যখন এই বিশেষ অমাবস্যায় কামাখ্যা, তারাপীঠ সহ একাধিক স্থানে তান্ত্রিক বা জ্যোতিষীরা উপস্থিত হয়ে বিশেষ পুজো,হোম যজ্ঞর মাধ্যমে বহু মানুষের গ্রহগত দোষ খণ্ডন করতেন। তান্ত্রিক সাধনা করতেন।বহু সিদ্ধ যোগী এই ফলহারিণী অমাবস্যায় সিদ্ধি লাভও করেছেন বলে শোনা যায়।

 

ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে সংক্ষেপে আজ তন্ত্র , জ্যোতিষ এবং ফলহারিণী অমাবস্যার সম্পর্ক আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। আগামী দিনেও চলতে থাকবে বিভিন্ন আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।