শিব অবতার – কৃষ্ণদর্শন রূপ

6

শিব অবতার – কৃষ্ণদর্শন রূপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্মে অবতার তত্ত্ব নিয়ে বলতে গেলে শ্রী বিষ্ণুর অবতার গুলি নিয়েই বেশি আলোচনা হয়। কারন তিনি সৃষ্টির পালন কর্তা এবং প্রতি যুগেই তিনি ভিন্ন ভিন্ন অবতারে ফিরে আসেন অধর্ম নাশ করে ধর্ম স্থাপন করতে। তবে সংহার কর্তা শিব ও একাধিক অবতারে অবতীর্ণ হয়েছেন। তার মধ্যে একটি বিশেষ অবতার কৃষ্ণ দর্শন অবতার।

আজকের পর্ব এই অবতার নিয়ে।

 

কৃষ্ণ দর্শন অবতার বিশেষ কারন শিব স্বয়ং পরম বৈষ্ণব এবং বৈষ্ণব ধর্মের একজন সংস্থাপক আচার্য্য।পুরান অনুসারে একবার কৈলাসে শিবকে পার্বতী প্রশ্ন করেছিলেন যে তিনি সদা কার ধ্যানে মগ্ন। শিব বলে ছিলেন তিনি তার আরাধ্যা শ্রী কৃষ্ণর ধ্যানে মগ্ন থাকেন।তাই কৃষ্ণ দর্শন অবতার ভক্তের ভগবান রূপে আত্ম প্রকাশ।

 

শাস্ত্র থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে ঋষি অঙ্গিরা যখন যজ্ঞের অবশিষ্ট সম্পদ নভাগকে দান করতে চান তখন শিব এই রূপে সেখানে উপস্থিত হয়ে যজ্ঞের গভীর রহস্য এবং ত্যাগের মহিমা বোঝান।

তিনি বলেন সমস্ত যজ্ঞের ফল নিষ্কাম ভাবে রুদ্র বা শিবের চরণে অর্পণ করা উচিত।সেই আজ্ঞা পালন করে নভাগ ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করেন।অর্থাৎ রাজা শ্রদ্ধাদেবের পুত্র নভাগকে মোক্ষলাভের পথ দেখাতে শিব এই রূপ ধারণ করেছিলেন।

 

প্রতিকী অর্থে এই অবতারটি সততা, বৈরাগ্য এবং ঈশ্বরের প্রতি সমর্পণের গুরুত্ব তুলে ধরে।শিব এই রূপে ভক্তকে সম্পূর্ণ রূপে ভগবানের চরণে স্মরণাগত হওয়ায় আদর্শে উদ্বুদ্ধ করেন।

যা মানুষকে জাগতিক মায়া

থেকে মুক্ত হতে উৎসাহিত করে।

 

ফিরে আসবো পরবর্তী শিব অবতার এবং সেই সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।