মধুসূদন মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
বৈশাখ মাস মানেই মধুসূদন মাসের সূচনা। জ্যোতিষ শাস্ত্রে যে সাতাশটি নক্ষত্র আছে তার মধ্যে বিশাখা নক্ষত্রর নাম অনুসারে বৈশাখ মাসের নাম। আবার শাস্ত্র মতে এই মাস শ্রী বিষ্ণুকে উৎসর্গ করা হয়েছে। আজ থেকে মধুসূদন মাস উপলক্ষে শুরু করবো কৃষ্ণ কথা। আজ প্রথম পর্বে মধুসূদন মাসের আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ব্যাখ্যা করবো।
শ্রী বিষ্ণুর একটি নাম মধুসূদন। মধু ও কৈটভ নামক দুই অসুর যখন প্রবল অত্যাচারী হয়ে ওঠে তখন স্বয়ং বিষ্ণু তাদের বধ করতে চান কিন্তু দীর্ঘ সময় যুদ্ধ করেও তাদের বধ করা যায়না। অবশেষে এই দুজন বিষ্ণু কে বলেন যে তারা জয়ী এবং তারা বিষ্ণুকে বর দিতে চান বিষ্ণু তাদের বধ করতে চাইলেন। তারা শর্ত দিলো যে যেখানে জল আছে সেখানে তাদের বধ করা যাবেনা। বিষ্ণু ব্রম্ভাকে শক্তিরূপিণী এক শিলা খন্ড শুন্যে ধারণ করতে বললেন। সেই শিলা শুন্যে ভাসতে লাগলো এবং তার উপর উঠে বিষ্ণু মধু এবং কৈটভকে বধ করলেন এবং বিষ্ণুর আরেকটি নাম হলো মধুসুদন। এই মাসেই এই যুদ্ধ হয়ে ছিলো তাই এই মাসকে মধুসুদন মাস বলে।
স্কন্দ পুরান মতে এই মাস যেকোনো শুভ কার্যের জন্য আদৰ্শ মাস।এই মাসে বিষ্ণু তার ভক্তদের বিশেষ কৃপা করেন এবং এই মধুসুদন মাসে শ্রী বিষ্ণুর আরাধনা করলে সকল অশুভ শক্তি দুর হয় এবং সব মনোস্কামনা পূর্ণ হয়।
সমগ্র মধুসুদন মাস জুড়ে আমি আপনাদের সামনে শ্রী কৃষ্ণের সাথে জড়িত বিভিন্ন পৌরাণিক ঘটনা এবং বিশেষ কিছু লীলা ব্যাখ্যা সহ আপনাদের জন্য উপস্থাপন করবো। ফিরে আসবো আগামী পর্বে কৃষ্ণকথা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।