গুরু কথা – গুরু নানকজী 

18

গুরু কথা – গুরু নানকজী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

গুরু কথার আজকের পর্বে আমরা জানার চেষ্টা করবো শিখ ধর্ম গুরু পরম শ্রদ্ধেয় নানকের জীবন এবং তার আধ্যাত্মিক কর্মকান্ড|

 

শিখ ধর্মের অন্যতম ধর্মগুরু গুরু নানক জন্ম

গ্রহণ করেন ১৪৬৯ সালে তালবন্ডী নামক স্থানে বর্তমানে এটি পাকিস্তানে অবস্থিত ও নানকানা সাহিব হিসেবে পরিচিত|

 

শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন উদাসীন প্রকৃতির|মনে করা হয় মাত্র ৭-৮ বছর বয়সে তিনি স্কুলে যাওয়া ছেড়ে দেন|এই সময়ে থেকেই তার মধ্যে ভগবত প্রাপ্তি সম্পর্কে নানান প্রশ্ন উঁকি দিতে থাকে|পরবর্তীতে গুরু নানক অধিকাংশ সময় আধ্যাত্মিক চিন্তাভাবনা ও সৎসঙ্গে কাটাতে

শুরু করেন|

 

গুরু নানক প্রায় সব ধর্ম গ্রন্থ পাঠ করে ছিলেন এবং মক্কা সহ দেশ বিদেশের একাধিক তীর্থ স্থান পরিদর্শন করে ছিলেন।কঠোর সাধনার মধ্যে দিয়ে তিনি উপলব্ধি করেছিলেন যে ঈশ্বর এক এবং অভিন্ন তিনি শুধু প্রথম এবং প্রধান শিখ

ধর্ম গুরু ছিলেন না তিনি ভারত তথা গোটা বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক গুরু হয়ে উঠেছিলেন।

 

একটা সময়ের পর তার মধ্যে দৈব শক্তির প্রকাশ লক্ষ্য করা যায়|বোঝাযায় তিনি কোনো সাধারণ মানুষ নয়|তার জন্ম হয়েছে একটি বিশেষ লক্ষ্য পূরণের উদ্দেশ্য নিয়ে|কালক্রমে, আধ্যাত্মিক চর্চা ও সাধনার মধ্যে দিয়ে তিনি হয়ে উঠলেন সকলের শ্রদ্ধেয় গুরুনানক|শিখ সম্প্রদায় তথা সমগ্র মানব জাতীর কাছে এক প্রণম্য ব্যাক্তিত্ব|গুরুনানকের জন্ম তিথিতেই প্রতি বছর পালিত হয় নানক জয়ন্তী|

 

শিখ ধর্ম গুরুরা নিজেদের অলৌকিক ক্ষমতা জাহির করতেন না। এই সম্পর্কে গুরু নানক কে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলতেন আমি ঈশ্বরের আইনের বিরুদ্ধে কিছুই করতে পারি না। তিনিই একমাত্র অলৌকিক কাজ করতে পারেন।তবে একাধিক এমন ঘটনা আছে যেখানে তার অলৌকিক শক্তি প্রকাশ পেয়েছে। একবার তিনি তার এক তৃষ্ণার্থ শিষ্যকে জল পান করানোর জন্য শুষ্ক পাথুরে জমিতে ঝর্ণার সৃষ্টি করেছিলেন

বলে শোনা যায়।

 

এই মহান গুরুকে আমার প্রণাম এবং শ্রদ্ধা জানাই।আবার গুরু কথায় অন্য এক মহান

গুরুর জীবনী নিয়ে ফিরে আসবো যথ পরবর্তী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।