কালী কথা – মা ঝিংলেস্বরী

61

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পূর্ব মেদিনীপুরের ভবানীপুরে রয়েছে এক প্রাচীন মন্দির যা কোনো শক্তি পীঠ বা সিদ্ধ পীঠ
না হয়েও স্থানীয়দের কাছে বিশেষ শ্রদ্ধার এবং অত্যন্ত প্রসিদ্ধ|দেবী আদ্যা শক্তি মহা মায়া এখানে ঝিংলেস্বরী নামে বিরাজ করছেন।
ঝিংলেস্বরী মায়ের মন্দিরের সাথে জড়িয়ে আছে
এক অলৌকিক ঘটনা।

বহু কাল আগ এই স্থান দিয়ে বয়ে যেতো হলদি নদী। নদীতে যাতায়াত করতো বিরাট বিরাট জাহাজ, একবার এমনই একটি জাহাজ নোঙর ফেলেছিলো এই স্থানে|জাহাজের নাবিকরা যখন ধূমপান করতে ব্যাস্ত তখন হটাৎ একটি মেয়ের আবির্ভাব হয় সেখানে, মেয়েটি নাবিকদের কাছে আগুন চায়|নাবিকরা মেয়েটিকে আগুন নিতে জাহাজে আসতে বলে|মেয়েটির রহস্যময়ী ভাবে হেসে বলে সে জাহাজে উঠলে বিপর্যয় ঘটতে পারে|নাবিকরা ছোট্ট মেয়েটির কথায় গুরুত্ব না দিলে অবশেষে মেয়েটিকে জাহাজে উঠতে হয়|মেয়েটি জাহাজে পা দেয়ার সাথে সাথে জাহাজ বসে যায় সবাই যখন ভিত এবং শন্ত্রস্ত সেই সময় ঘটে আরেক অলৌকিক ঘটনা হটাৎ
জাহাজের মাস্তলে দেখা যায় এক দেবী মূর্তি|
সবাই সেই দেবীর কাছে হাত জোর করে প্রাণ ভিক্ষা করলে রক্ষা পায় জাহাজ।

জনশ্রুতি হিসেবে এই অলৌকিক ঘটনা আজও লোকের মুখে শোনা যায়|মানুষের বিশ্বাস সেই স্থানের কাছেই নির্মিত হয়েছে এই প্রাচীন ঝিংলেস্বরী মন্দির|দেবী সেদিন বালিকার বেশে নাবিক দের জাহাজে উঠেছিলেন|আজও তিনি
ঝিংলেস্বরী রূপে সেই স্থানে স্বমহিমায় বিরাজমান|

প্রাচীন মন্দিরটি ঠিক কবে নির্মিত হয়েছিলো এবং কে নির্মাণ করেছিলেন তা সঠিক ভাবে জানা যায়না তবে পরবর্তীতে মহিষাদলের রাজ
প্রচুর জমি দান করেন মন্দিরের উদ্দেশ্যে এবং মন্দিরের পূজার ভার অর্পণ করা হয় একটি বিশেষ পরিবারকে যে পরম্পরা আজও চলছে|

দেবী এখানে উগ্রতারা রূপে বিরাজিতা|দূর্গা পুজো উপলক্ষে এবং পরবর্তীতে দীপান্বিতা অমাবস্যায় এখানে বহু মানুষের সমাগম হয় এবং নিষ্ঠা সহকারে পুজো হয়|

ফিরে আসবো কালী কথার পরের পর্বে এমনই প্রাচীন এবং অলৌকিক ঘটনায় পরিপূর্ন
নতুন কোনো কালী মন্দিরের কথা নিয়ে।
যথা সময়ে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।