সনাতন ধর্ম ও তুলসী মাতা

44

দামোদর মাস নিয়ে আগেই বলেছি, সনাতন ধর্মে দামোদর মাসের গুরুত্ব অপরিসীম আর এই আলাদা করে তুলসী দেবীর মহিমাও প্রচার করা হয়|আজ বলবো তুলসীদেবীর আধ্যাত্মিক গুরুত্ব নিয়ে|তুলসীর আবির্ভাব সম্পর্কে পুরাণে বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা পাওয়া যায়। একই তুলসীদেবী কখনো জলন্ধরের পত্নী, কখনো শঙ্খচূড়ের পত্নী, আবার, কখনো বা ধর্মদেবের পত্নী বা চন্দ্রভানু কন্যা, আবার কখনো কেদাররাজের কন্যারূপে আবির্ভূত হয়েছেন|তবে প্রত্যেক জন্মেই তিনি কৃষ্ণভক্তিপরায়ণা ছিলেন।ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণে উল্লেখ আছে ,কেদার রাজার যজ্ঞকুন্ড থেকে লক্ষীদেবীর অংশরূপে এক কন্যা আবির্ভূত হন এবং সে কন্যা কেদার রাজ ও তাঁর পত্নীকে তাঁর পিতা-মাতারূপে গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে সেই কন্যা তপস্যার উদ্দেশ্যে যমুনার তীরবর্তী বনে গমন করেন। ঐ কেদারকন্যার নাম ছিল বৃন্দা। তাই, তার তপোবন বলে সেই বন জগত বৃন্দাবন নামে প্রসিদ্ধ হয়।বৃন্দ ও তুলসী একই নারী বলে মনে করা হয়|ব্রহ্মার নিকট থেকে তিনি শীঘ্রই শ্রীকৃষ্ণকে পতিরূপে লাভ করার বর প্রাপ্ত হন।দেবী তুলসী কেন বৃক্ষ রূপ ধারণ করলেন তা নিয়েও একটি পৌরাণিক ঘটনা আছে|শঙ্খচুর নামে এক অসুরের সাথে দেবতাদের ভয়ঙ্কর যুদ্ধ হয়েছিলো|সেই সময়ে শঙ্খচুরের পত্নী রূপে ছিলেন তুলসী দেবী স্বয়ং যুদ্ধে বিষ্ণু ছলনা করে শঙ্খচুরকে হত্যা করলে তুলসীদেবী রেগে গিয়ে বিষ্ণুকে শিলা খন্ড হয়ে গন্ডকি নদীতে পতিত হওয়ার অভিশাপ দিলেন|পরে নিজের ভুল বুঝতে পারলে বিষ্ণু তাকে ক্ষমা করেন ও বর দেন পবিত্র বৃক্ষ রূপে চিরকাল পূজিতা হওয়ার|ব্রহ্মবৈবর্ত পুরাণ অনুসারে, একসময় দেবী তুলসী অভিমান বশত অন্তর্হিত হলে তুলসীবনে গমনপূর্বক শ্রীহরি তুলসীর পূজা ও স্তব করেন। তখন দেবী তুলসী বৃহ্ম হতে আবির্ভূতা হন এবং শ্রীহরির পাদপদ্মে শরণ নেন।তুলসী গাছ নিয়ে অসংখ্য শাস্ত্রীয় উপাচার আছে যারা কিছু আমি আগেই বলেছি|আজ যে উপাচার গুলি বলবো সেগুলি এই পবিত্র দামোদর মাসে করলে আপনাদের অনেক সমস্যা দুর হবে|প্রায় সব হিন্দু বাড়িতেই তুলসী গাছ দেখতে পাওয়া যায়। তবে খেয়াল রাখতে হবে, তুলসী গাছ যেন থাকে বাড়ি থেকে বেরোনোর প্রধান দরজার ডান দিকে।গৃহ কর্তার জন্য এটা শুভ|চারটি তুলসী পাতা ঘরের চার কোণে রেখে দিন। তার পর যত দিন পর্যন্ত তুলসী পাতাগুলি শুকিয়ে না যায়, তত দিন রাখতে হবে। শুকিয়ে গেলে জলে ভাসিয়ে আবার নতুন করে তুলসী পাতা রাখুন। এর ফলে বাড়িতে পজিটিভ এনার্জি থাকবে ভরপুর এবং যে কোনও শুভ কাজে সাফল্য আসবে দ্রুত।তামার ঘটিতে জল নিয়ে কয়েকটি তুলসী পাতা ভিজিয়ে রাখুন, যখন সকাল-সন্ধ্যা বাড়িতে পুজো করা হয়, তখন সেই জল সারা বাড়িতে ছিটিয়ে দিন।বাস্তু দোষ দুর হবে|বাড়িতে শ্রী কৃষ্ণ বিরাজমান থাকলে, অবশ্যই তুলসী পাতা মিশিয়ে সেই জলে স্নান করান।ভগবানের আশীর্বাদ পাবেন|ফিরে আসবো যথা সময়ে অন্য কোনোশাস্ত্রীয় ও পৌরাণিক বিষয় নিয়ে আগামী পর্বে|ভাই ফোঁটার শুভেচ্ছা জানাই সবাইকে|ভালো থাকুন|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|