দেবভূমি হরিদ্বারের দক্ষিনা কালীমন্দিরের ইতিহাস

43

সাধারনত কালী বা বিশেষ করে দক্ষিনা কালীর প্রসঙ্গ এলে বাংলা বা দক্ষিনেশ্বর মন্দিরের কথা মনে পড়ে তবে আজ আপনাদের এমন এক দক্ষিনা কালী মন্দিরের কথা বলবো যা অবস্থিত সুদূর হরিদ্বারে|তবে তার আগে কালীতত্ত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ন কিছু কথা|প্রায় শোনা যায় দূর্গা ও কালী একই|আসুন জেনে নিই শাস্ত্র কি বলছে, মহাদেব আড়ালেই তার পত্নীকে “কালী” সম্বোধন করতেন। এবারে সকলের সন্মুখেই ‘কালী’ ডাক শুনে চূড়ান্ত অপমানিত বোধ করে ক্রোধিত হন দেবী। ফলস্বরূপ, মানস সরোবরের ধারে এক কঠোর তপস্যায় বসলেন। অতঃপর তপস্যান্তে মানস সরোবরের শীতল জলে স্নানের মাধ্যমে দেহের সকল কালিমা ত্যাগ করে উজ্জ্বল চাঁদের মতো বর্ণ ধারণ করলেন।পৌরাণিক এই ঘটনাই প্রমাণ করে যে দুর্গা এবং কালী প্রকৃত পক্ষে এক এবং অভিন্ন পার্থক্যটা নিছক বর্ণে|উত্তরাখণ্ডে চারধাম যাত্রার প্রবেশপথ হিসেবে পরিচিত হরিদ্বার বাঙালির অতি পরিচিত জায়গা। মূলত মহাদেবের ধাম হিসেবে পরিচিত উত্তরাখণ্ড। তবে অন্যান্য দেবদেবীদেরও মন্দির আছে উত্তর ভারতের এই রাজ্যে।দেব ভূমি হরিদ্বারেই রয়েছে দক্ষিণ কালী মন্দির। দেশের অন্যতম সিদ্ধপীঠ এটি। মন্দিরের পুরোহিত বলেন এই ধরনের দক্ষিণ কালী মন্দির সারা ভারতে মাত্র দু’টি আছে। তার মধ্যে একটি হল দক্ষিণেশ্বর এবং দ্বিতীয়টি হরিদ্বারে। দক্ষিণেশ্বরের সঙ্গে হরিদ্বারের এই মন্দিরের ঘনিষ্ঠ যোগও আছে। রামকৃষ্ণদেবের এক শিষ্য এই মন্দির প্রতিষ্ঠার সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত ছিলেন বলে জানা যায় যদিও তার নাম সেই ভাবে উল্লেখিত নয়|হরিদ্বারে চণ্ডীঘাটের কাছেই অবস্থিত দক্ষিণ কালী মন্দির। এখানে গঙ্গা বইছে উত্তর থেকে দক্ষিণ দিকে। কিন্তু দেবী কালীর মূর্তি পূর্বদিকে মুখ করে আছে। মন্দিরে প্রবেশ করলে প্রথমে কালীমূর্তি চোখে পড়ে। এরপর সিঁড়ি দিয়ে নেমে গেলে চোখে পড়ে দশমহাবিদ্যার মূর্তিগুলি। গুহার মধ্যে অগ্নিকুণ্ডের সামনে রয়েছে এই মূর্তিগুলি। গুহায় প্রবেশ করলে অজান্তেই ভক্তি ও শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে যায়। আলো-আঁধারের পরিবেশে মন একেবারে অন্যরকম হয়ে যায়|কালী ভক্তির গভীর সাগরে নিমজ্জিত হয় দেহ মন|সেবায়েতরা বলেন মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে হরিদ্বারের এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেন আধ্যাত্মিক গুরু কামরাজ। তাঁর আহ্বানে গঙ্গার তীরবর্তী এই মন্দিরে গিয়ে বসবাস শুরু করেন অলহা ও মছলা নামে এক দম্পতি তারাই মন্দিরের দেখা শোনা ও পুজো করতেন ।স্থানীয়দের বিশ্বাস অনুযায়ী, এই মন্দিরে বাস করেন সাদা-কালো রঙের নাগ-নাগিন। তাছাড়া রহস্যময় এক ড্রাগন স্বরূপ প্রাণীও নাকি বাস করে এই মন্দিরে। তবে কেউ তাদের দেখতে পান না। জোড়া সাপ ও ড্রাগন কোনওদিন কারও ক্ষতিও করেনি আজ অবধি|হরিদ্বারের এই সিদ্ধপীঠে রোজ কয়েকশো ভক্ত পুজো দিতে যান। প্রতি শনিবার বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। নবরাত্রিতেও বিশেষ পুজো হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, এই মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করলে সব মনোকামনা পূর্ণ হয়। এছাড়া রোগ-যন্ত্রণা, অন্যান্য সমস্যাও দূর হয়। দেবীর উদ্দেশে অর্পণ করা হয় নারকেল, গোলাপ ফুল, কালোজাম, মিষ্টি পান। শনিবার মা কালীকে দেওয়া হয় খিচুড়ি।আগামী 24 নভেম্বর দীপান্বিতা অমাবস্যায় আমার গৃহ মন্দির ও তারাপীঠ মহা শ্মশানে একসাথে হবেহোম যজ্ঞ ও তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার আপনারা চাইলে এই মহা যজ্ঞে নিজের গ্রহ দোষ খণ্ডন অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারেন|দীপাবলী উপলক্ষে চলতে থাকবে এই কালী কথা ফিরে আসবো আগামী পর্বে কালী কথা নিয়ে|থাকবে অন্য কোনো মন্দিরের ইতিহাস|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|