গুরু কথা – শ্রী শ্রী সীতারামদাস ওঙ্কারনাথ 

115

ভারতীয় সনাতন সংস্কৃতির এক অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ হচ্ছে এই গুরু শিষ্য পরম্পরা|আর এই পরম্পরা বা ঐতিহ্য কে উদযাপন করার দিন হচ্ছে গুরু পূর্ণিমা|আজ 13 জুলাই এবছর গুরু পূর্ণিমা পালন হচ্ছে |আর এই বিশেষ সময়ে আমি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি আমাদের হাজার হাজার বছরের এই গুরু শিষ্য ঐতিহ্যর নানা দিক, ব্যাখ্যা করছি গুরুতত্ব কে নিজের মতো করে আর লিখছি জগৎ বিখ্যাত কিছু গুরুর কথা|আমাদের দেশের এমনই এক পরম শ্রদ্ধেয় ও মহাজ্ঞানী গুরু ছিলেন ঠাকুর সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ দেব|আজ এই মহান গুরুর জীবন নিয়ে কিছু কথা বলবো|ইংরেজিরা 1891 সালে হুগলীর ডুমুর দহে প্রান হরি চট্টোপাধ্যায় ও মালতি দেবীর গৃহে জন্মায় এক শিশু নাম রাখা হয় প্রবোধ চন্দ্র|শৈশব থেকেই কিছুটা ভাবুক প্রকৃতির ছিলেন প্রবোধ চন্দ্র, ঈশ্বর চিন্তায় মগ্ন থাকতেন |পরবর্তীতে শিক্ষাগুরু ও সাধক দাশরথি মুখোপাধ্যায়ের কাছে দীক্ষা নিলেন|শিক্ষাগুরু হলেন দীক্ষাগুরু। প্রবোধচন্দ্রের নাম হলো ‘সীতারাম’|গঙ্গা যমুনা সঙ্গম এ রাম নাম মন্ত্রে তার দীক্ষা হয়েছিলো|আত্মীয় স্বজন রা তাকে গৃহী দেখতে চেয়েছিলো তাই ঠাকুরচরণ ভট্টাচার্য্যের কন্যা সিদ্ধেশ্বরী দেবীর সঙ্গে তার বিবাহ দিলেন|কিন্তু ক্রমে আধ্যাত্মিক ভক্তির সমুদ্রে ডুবে যেতে থাকেন সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ এবং দুই সন্তান এর জন্মের পর ঘর ছেড়ে সন্যাসী হয়ে বেড়িয়ে পড়লেন তিনি|সর্বত্র রাম নাম প্রচার করতেন তিনি|ক্রমেই এক দিব্য ও অলৌকিক শক্তি উৎপন্ন হয় তার মধ্যে|সারা ভারত পরিক্রমা করে ১৯৩৬ সালের পৌষ মাসে সীতারাম ফিরে এলেন তাঁর দীক্ষালাভের স্থান ত্রিবেণীতে এবং স্থাপন করলেন একটি মঙ্গলঘট|এরপর বস্ত্র ত্যাগ করে কৌপিন পরিহিত সন্ন্যাসী রূপে পদার্পন করেন নিজের জন্ম স্থানে|ততো দিনে তিনি এক আধ্যাত্মিক শক্তি সম্পন্ন মহাপুরুষ|রাম নামের প্রচারে সপেঁ দিয়েছেন জীবন|অসংখ্য ভক্ত শিষ্য তার অনুগামী|লিখেছেন ১৫০ টি গ্রন্থ ও প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন ভাষার ১৩ টি পত্রপত্রিকা|প্রথমদিকে নাম প্রচার করলেও সীতারামদাস কাউকে আক্ষরিক অর্থে মন্ত্রদীক্ষা দিতেন না। কিন্তু শোনা যায়, পুরীতে তাঁর জগন্নাথের বিশেষ দর্শন ঘটেছিল। তিনি নাকি সাধারণকে মন্ত্রদীক্ষা দিতে জগন্নাথ কর্তৃক আদিষ্ট হয়েছিলেন|তার পরই তিনি দীক্ষাদান শুরু করেন। এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে তিনি দীক্ষা দেন। তিনি ছিলেন এক প্রকৃত সাধক ও আদর্শ গুরু যিনি তার ভক্ত ও শিষ্য দের আধ্যাত্মিক পথে চলতে শিখিয়েছেন,ঈশ্বরের উদ্দেশ্যে জীবন উৎসর্গ করতে ও দেশকে ভালো বাসতে শিখিয়েছেন|১৯৮২ সালের ৫ ডিসেম্বর তিনি পরলোক গমন করেন|দেশ ও সারা বিশ্ব জুড়ে ছড়িয়ে থাকা তার অগণিত ভক্ত শিষ্য আজও তার আদৰ্শ কে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে|গুরু পূর্ণিমার এই বিশেষ সময় এই গুরুর প্রতি শ্রদ্ধা আমার অন্তরের শ্রদ্ধা রইলো|প্রনাম জানাই এই মহান সাধক কে|আজকের গুরু কথা শেষ করবো শ্রী শ্রী সীতারাম দাস ওঙ্কার নাথ এর চরনে আমার প্রণাম ও শ্রদ্ধা জানিয়ে|আপনাদের সবাইকে গুরুপূর্ণিমারা শুভেচ্ছা জানাই|গুরু পূর্ণিমা উপলক্ষে সারা সপ্তাহ ধরে চলবে গুরু কথা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|