কালীতীর্থ – বড়ো কালী মন্দির

366

বাংলার বিভিন্ন স্থানে অনেক সুউচ্চ কালী মন্দির বা বিশালআকার কালী মূর্তি থাকলেও আজও বড়ো কালী বলতে অনেকেই বর্ধমানের কালনার ভট্টাচার্য পরিবার কতৃক স্থাপিত একটি বিশেষ কালী মূর্তির কথাই বোঝান|অনেক রহস্য ময় ঘটনা ও জনশ্রুতি সৃষ্টি হয়েছে এই প্রাচীন কালী মন্দিরকে কেন্দ্র করে|আজকের কালীক্ষেত্র পর্বে কালনার এই প্রসিদ্ধ এবং জাগ্রত বড়ো কালীর কথা লিখবো|ব্রিটিশ আমলে এই কালী মন্দির তৈরি হয়, আনুমানিক ভাবে বড়কালীর পুজো অন্তত ৪০০ বছরের প্রাচীন|৪০০ বছর আগে হোগলা পাতার ছাউনি দেওয়া মাটির মন্দিরে শুরু হয়েছিল পুজো|পরবর্তীতে স্থানীয় ভট্টাচার্য পরিবারের প্রচেষ্টায় তৈরি হয় পাকা মন্দির আজও বংশ পরম্পরায় তারাই বড়োকালীর পুজোর সমস্ত দায়িত্ব নিষ্ঠা সহকারে পালন করে আসছেন|দেবী হয়ে উঠেছেন তাদের পারিবারিক কুলদেবী|এলাকাও আজ পরিচিত বড়োকালী তলা নামে|এবার একটি অলৌকিক ঘটনার কথা উল্লেখ করবো,এখানে দেবীর পায়ে নূপুর থাকার জন্য পুজোর দায়িত্বে থাকা পরিবারের কারও নূপুর পরা বা নূপুর উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ। কথিত আছে, একবার সেই রীতি ভেঙে পরিবারের এক মহিলা নুপুর পড়েছিলেন আশ্চর্য জনক ভাবে ওই দিনই সন্ধ্যাবেলায় সর্পদষ্ট হন তিনি পরে অবশ্য দেবীর কৃপায় প্রানে বাঁচেন তিনি|আরেকটি ঘটনার কথা উল্লেখ করা যায়, শোনা যায় একবার এলাকারই অন্য এক পরিবার বড়কালীর চেয়ে বেশি উচ্চতার প্রতিমা বানাবে বলে মাপ চুরি করে নিয়ে যায়। কিন্তু ভাগীরথীর ঘাটে বিসর্জনের সময়ে দেখা যায়, বড়কালীর উচ্চতাই সবথেকে বেশি|এই কালী মন্দিরের পুজোর অন্যতম বৈশিষ্ট মশাল|এক সময়ে এলাকায় ছিল ঘন বন। ছিলো ডাকাত,আনাগোনা ছিল বাঘেরও। বাঘের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অমাবস্যার রাতে দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হত পুজোর সময়। সেই রীতি মেনে আজও পুজোর সময় দু’টি মশাল জ্বালিয়ে রাখা হয়|বাংলার তথা জেলার বিখ্যাত এই কালী মন্দিরে একাধিক সময়ে একাধিক বিখ্যাত মাতৃ সাধক এসেছেন যাদের মধ্যে রয়েছেন সাধক রামকৃষ্ণ,আনন্দ ময়ী মা, ভবা পাগলা ও ওমকার নাথের মতো ব্যাক্তিত্বরা|আজ এখানেই থামছি,তবে কালী তীর্থ নিয়ে এই বিশেষ পর্ব গুলি চলবে|পড়তে থাকুন|ধন্যবাদ|