ধনতেরাসের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ ধনতেরাস।আজকের এই এই বিশেষ পর্বে আলোচনা করবো ধনতেরাস নিয়ে।জানবো এই উৎসবের সাথে জড়িত এক অদ্ভুত পৌরাণিক ঘটনা এবং এই উৎসবের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
দীপাবলী মূলত পাঁচ দিনের উৎসব। যার মধ্যে একটি দিন ধনতেরাস রূপে পালিত হয়।
এই উৎসবকে ধনাত্রয়োদশী বা ধনবত্রী ত্রয়োদশীও বলা হয়।‘ধন’ শব্দের মানে সম্পত্তি। ত্রয়োদশী শব্দের অর্থ হিন্দু ক্যালেন্ডারের ১৩তম দিন। দীপাবলীর সময় লক্ষ্মীপুজোর দিন দুই আগে ধনতেরাস হয়। বলা হয়, ধনতেরাসের দিন দেবী লক্ষ্মী তার ভক্তদের গৃহে যান ও তাঁদের ইচ্ছাপূরণ করেন। ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি খুব গুরুত্বপূর্ণ। তাঁরা এ দিন দামি ধাতু কেনেন। সম্পদের দেবতা কুবেরও এ দিন পূজিত হন|
প্রাচীন কালে ভারতবর্ষে এক রাজা ছিলেন, তার নাম ছিলো রাজা হিমা, রাজা হিমার ১৬ বছরের ছেলের এক অভিশাপ ছিল। তার কুষ্টিতে লেখা ছিল, বিয়ের চার দিনের মাথায় সাপের কামড়ে তার মৃত্যু হবে। তার স্ত্রীও জানত সেই কথা। তাই সেই অভিশপ্ত দিনে সে তার স্বামীকে সে দিন ঘুমোতে দেয়নি। শোয়ার ঘরের বাইরে সে সমস্ত গয়না ও সোনা-রূপার মুদ্রা জড়ো করে রাখে। সেই সঙ্গে সারা ঘরে বাতি জ্বালিয়ে দেয়। স্বামীকে জাগিয়ে রাখতে সে সারারাত তাকে গল্প শোনায়, গান শোনায়। পরের দিন যখন মৃত্যুর দেবতা যম তাদের ঘরের দরজায় আসে, আলো আর গয়নার জৌলুসে তাঁর চোখ ধাঁধিয়ে যায়। রাজপুত্রের শোয়ার ঘর পর্যন্ত তিনি পৌঁছন ঠিকই। কিন্তু সোনার উপর বসে গল্প আর গান শুনেই তাঁর সময় কেটে যায়। সকালে কাজ অসম্পূর্ণ রেখেই চলে যান তিনি। রাজপুত্রের প্রাণ বেঁচে যায়। পরদিন সেই আনন্দে ধনতেরাস পালন শুরু হয়।
ভারতে ধনতেরাস উত্সব উদযাপিত হয় সোনা, রুপো বা বাসন কিনে। একে সৌভাগ্যের লক্ষণ বলা হয়। নতুন জামাকাপড়ও এ সময় কেনে মানুষ। এরপর করা হয় লক্ষ্মী পুজো। চারিদিকে প্রদীপ জ্বালিয়ে দেবীর আরাধনা করা হয়। পুজো হয় গণেশেরও।যেকোনো শুভ কাজের জন্যই এই তিথি ভালো।
অর্থ বা সম্পদ প্রাপ্তিড় জন্য এই উৎসবটিকেই
শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় উৎসব রূপে শাস্ত্রে স্বীকৃতি দেয়া হয়।
আজকের এই ধনতেরাসের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে যাবে দিপালী পালন সবাইকে জানাই
ধনতেরাসের শুভেচ্ছা এবং অগ্রীম শুভ
দীপাবলী।
ফিরে আসবো দীপাবলির সংক্রান্ত আরো কিছু শাস্ত্রীয় আলোচনা এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে
আগামী পর্ব গুলিতে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
