কালী কথা – সোনামুখীর কৃষ্ণ কালী

5

কালী কথা – সোনামুখীর কৃষ্ণ কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলার প্রাচীন কালী মন্দির গুলির মধ্যে অধিকাংশই দক্ষিনা কালী বা বামা কালী এবং বেশি ভাগ স্থানেই পূজো শুরু হয়েছিলো তন্ত্র মতে ডাকাত বা জমিদারদের তত্ত্বাবধানে। তবে কিছু স্থানে বৈষ্ণব মতে কৃষ্ণ কালীর পূজোও হয়।

কৃষ্ণ কালী হলেন দেবীর সেই রূপ যেখানে কালী এবং কৃষ্ণ মিলে মিশে একাকার হয়ে যায়।

আজ এমনই এক কৃষ্ণ কালীর পূজোর কথা জানাবো কালী কথায়।

 

বাঁকুড়ার সোনামুখীতে এক সময় বাস করতো একশোর বেশি বৈষ্ণব পরিবার। এই সব বৈষ্ণব পরিবারের উদ্যোগে পুজো শুরু হয় নীলবর্ণা কৃষ্ণকালীর আজও এই মন্দিরে বৈষ্ণব মতে পুজো পান মা কৃষ্ণকালী।

 

অসাধারণ স্থাপত্য, চোখধাঁধানো কারুকাজ আর কৃষ্ণের রথের আদলে তৈরি মন্দিরে দেবী বিরাজ করছেন।দীর্ঘ সময় ধরে ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছে এই দেবালয়।সবটাই স্থানীয় পরিবার গুলির উদ্যোগে। খরচ হয়ে ছিলো আনুমানিক তিরিশ লক্ষ্য টাকা।

 

মন্দিরের অভ্যন্তরে অপূর্ব আধ্যাত্মিক পরিবেশ অনুভব করা যায়।মন্দিরের দেওয়ালে রয়েছে সমুদ্র মন্থনের চিত্র। প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন শ্রীরামকৃষ্ণ, মা সারদা এবং স্বামী বিবেকানন্দ।

 

এই পুজোর অন্যতম বিশেষত্ব এর বৈষ্ণব রীতি। প্রতি বছর কালীপুজোর রাতে দেবীর দর্শন করতে ভক্তদের ব্যাপক সমাগম হয়। পুজো ঘিরে এলাকায় তৈরি হয় উৎসবের আবহ।সোনামুখী শহরের বাইরে থেকেও বহু দর্শণার্থী আসেন দেবী কৃষ্ণ কালীর দর্শন লাভ করতে।

 

কালীপুজো উপলক্ষে রমহাপ্রসাদের বিশেষ আয়োজন হয়।সেই প্রসাদ বিতরণ করা হয় ভক্তদের মধ্যে।

 

আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে ধারাবাহিক কালী কথা। ফিরে আসবো অন্য একটি কালী মন্দির নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।