কালী কথা – খালোড় কালী বাড়ি

11

কালী কথা – খালোড় কালী বাড়ি

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পশ্চিমবঙ্গের হাওড়া জেলার বাগনান অঞ্চলের খালোড় গ্রামে অবস্থিত প্রায় পাঁচশো বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী খালোড় কালীবাড়ি নিয়ে আজকের কালী কথায় লিখবো।

সম্রাট আকবরের প্রধানমন্ত্রী আবুল ফজলের রচিত আইন-ই-আকবরী গ্রন্থেও খালোড় গ্রামের উল্লেখ পাওয়া যায় বলে জানা যায়।অর্থাৎ স্থানটি প্রাচীন এবং স্থানের নামেই মন্দিরের নামকরণ।

আর পাঁচটা জাগ্রত কালী মন্দিরের ন্যায় এই কালী মন্দিরের সাথেও অলৌকিক ঘটনা জড়িয়ে আছে।জনশ্রুতি অনুসারে মা কালীর স্বপ্নাদেশ পেয়েই এই মন্দির প্রতিষ্ঠা করেছিলেন এই অঞ্চলের তৎকালীন রাজা।কথিত আছে, তৎকালীন মহারাজা দেবোত্তর সম্পত্তি হিসেবে মন্দিরের জন্য প্রায় ৩৬৫ বিঘা জমি দান করেছিলেন।সেই জমির আয় থেকেই মন্দিরের সব ব্যয় বহন করা হতো।

দামোদর নদীর তীরে গড়ে ওঠা এই মন্দির আজও অসংখ্য ভক্তের কাছে এক পবিত্র তীর্থস্থান যেখানে অধিষ্ঠিত রয়েছেন মা দক্ষিণাকালী। মন্দিরের গর্ভগৃহে দেবীর বিগ্রহের নিচে শায়িত অবস্থায় রয়েছেন মহাদেব শিব। প্রাচীন কাঠের বিগ্রহ আর নেই তার বদলে নতুন করে মূর্তি নির্মাণ করে পরবর্তীতে পূজো শুরু হয়।

প্রাচীন এমন্দির প্রাঙ্গণে রয়েছে দুটি আটচালা শিবমন্দির। সেখানে প্রতিষ্ঠিত রয়েছেন বাণলিঙ্গ ও মৃত্যুঞ্জয় শিব। এছাড়াও মন্দিরের অভ্যন্তরে রয়েছে পালযুগের কষ্টিপাথরের বিষ্ণুমূর্তি এবং ছয়টি প্রাচীন পাথরের কচ্ছপের মূর্তি। বর্তমানে নিমকাঠের তৈরি দেবীমূর্তির প্রাণপ্রতিষ্ঠা হয় ১৩৪৭ বঙ্গাব্দে।

বিশেষ বিশেষ তিথি ছাড়াও সারা বছরই এই মন্দিরে ভক্তদের সমাগম ঘটে। পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলা ছাড়াও ভিন রাজ্যের বহু মানুষ মায়ের দর্শনে আসেন। প্রতিদিন সকাল ও সন্ধ্যায় নিত্যপুজো এবং দুপুরে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়।বিশেষত প্রতি বছর দীপান্বিতা অমাবস্যার কালীপুজো এখানে বিশেষ আড়ম্বরে অনুষ্ঠিত হয়।

ইতিহাস, ঐতিহ্য, লোকবিশ্বাস এবং গভীর ধর্মীয় আবেগকে সঙ্গে নিয়ে খালোড়ের এই কালীবাড়ি আজও বাংলার অন্যতম উল্লেখযোগ্য জাগ্রত কালী ক্ষেত্র।

ফিরে আসবো পরের পর্বে। আধ্যাত্মিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক উপস্থাপনা চলতে থাকবে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।