কালী কথা – কঙ্কালী তলার কালী

8

কালী কথা – কঙ্কালী তলার কালী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

বাংলায় অবস্থিত শক্তি পীঠের অন্যতম শক্তিপীঠ বীরভূম জেলার বোলপুর মহকুমায় অবস্থিত বিখ্যাত কঙ্কালীতলা মন্দির। কালী কথার আজকের পর্বে এই প্রাচীন কঙ্কালী তলার ইতিহাস এবং তার আধ্যাত্মিক মাহাত্ম নিয়ে বলবো।

 

মার্কেন্ডেয় পুরান মতে রাজা রাজা সুরথ মায়ের কৃপা পাওয়ার জন্য এই স্থানে এক লক্ষ বলি প্রদান করে ছিলেন। সেই থেকে নাম হয় বলি পুর যা থেকে পরবর্তীতে বোলপুর হয়।

 

প্রাচীনকালে এই জায়গাটি কাঞ্চি নামে প্রসিদ্ধ ছিল।পুরান মতে মতে দেবী সতীর কাঁখাল অর্থাৎ কোমর পড়েছিল বীরভূম জেলার বোলপুরের কোপাই নদীর তীরে । মতান্তরে দেবী সতীর কঙ্কাল পড়েছিল এই স্থানে।তাই পরবর্তীকালে কঙ্কালীতলা নামেই জনপ্রিয়তা লাভ করে।ভারতচন্দ্রের অন্নদামঙ্গল কাব্যগ্রন্থে লেখা রয়েছে, এখানে সতীর কটিদেশ বা কোমরের অংশটি পরেছিল।এখানে দেবীর নাম দেবগর্ভা এবং দেবীর রক্ষক ভৈরবের নাম রুরু।তন্ত্রচূড়ামতির মতে, এটি ২৮ নং সতীপীঠ।আবার লোক বিশ্বাস মতে এটি শেষ শক্তি পীঠ। পীঠ নির্ণয় তন্ত্রেও এই প্রাচীন কালীক্ষেত্রর উল্লেখ আছে।

 

জনশ্রুতি আছে যে আজ থেকে কয়েকশো

বছর আগে এক সাধু স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠের অস্তিত্ব অনুধাবন করেছিলেন। তার পরে অন্য এক মাতৃসাধক দেবীর স্বপ্নাদেশ পেয়ে এই পীঠে পুজোর শুরু করেন।

 

এই শক্তি পীঠে রয়েছে একটি রহস্যময় জলাশয় বা কুন্ড শোনা যায় কঙ্কালীতলার কুন্ডের সঙ্গে কাশীর মণিকর্ণিকা ঘাটের সরাসরি সংযোগ আছে । এই জলাশয়েই আছে দেবী সতীর প্রস্তুরীভূত দেহের অংশ যা কুড়ি বছর অন্তর কুন্ড থেকে তোলা হয় পুজার্চনার জন্য। পুজোর পরে আবার কুন্ডের জলে ডুবিয়ে রাখা হয়।

 

দেবীর কোনও মূর্তি নেই কঙ্কালী তলায় তার বদলে এখানে রয়েছে শ্মশানকালীর বড় বাঁধানো ছবি। যাকে দেবী রূপে পুজো করা হয়।

 

নিত্য পুজো ও ভোগ বিতরণ হয় এই কালী ক্ষেত্রে এই কঙ্কালীতলা গুপ্ত তন্ত্রসাধনার জন্য খুবই বিখ্যাত।তন্ত্র সাধকদের পাশাপাশি এখানে প্রায় সারা বছর সাধারণ পর্যটকদের ভিড় লেগে

থাকে এই শক্তি পীঠে।

 

ফিরে আসবো পরের পর্বে অন্য একটি কালী মন্দিরের ইতিহাস এবং আরো অনেক তথ্য

নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।