জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজো – লাহা বাড়ির পুজো

17

জমিদার বাড়ির দুর্গাপূজো – লাহা বাড়ির পুজো

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

দেবী পক্ষের সূচনার মধ্যে দিয়ে শুরু হয়ে গেছে এবছরের দুর্গা পূজোর প্রস্তুতি। আজ থেকে ধারাবাহিক ভাবে বাংলার কিছু বিখ্যাত রাজ বাড়ি বা জমিদার বাড়ির দুর্গা পূজো নিয়ে লিখবো।কলকাতার বড়ো পারিবারিক পুজো গুলির মধ্যে লাহা বাড়ির পূজো অন্যতম। আজ
শুরু করবো এই পুজো দিয়ে।

মনে করা হয় বর্ধমানের বড়শূলে প্রথম পুজো শুরু করেন বনমালী লাহা|পরবর্তীতে কলকাতায় এই পুজো শুরু করেন দুর্গাচরণ লাহা।শুরুর সময় থেকেই কলকাতার বনেদি বাড়ির পূজো গুলির মধ্যে বিশেষ স্থান করে নেই এই পূজো।

লাহা বাড়ির কুল দেবতা সিংহ বাহিনী এবং দূর্গা পুজোর সময়ের দেবী দূর্গা ও সিংহ বাহিনী একই সাথে পূজিতা হন|সিংহ বাহিনী কি করে এবাড়ির কুলদেবী হলো সে নিয়েও একটি অলৌকিক ঘটনার কথা শোনা যায়।

শোনা যায় কোনো এক সময় নাকি দেবীর এই মূর্তি কোন এক গভীর জঙ্গলে ডাকাতদের হাতে লাঞ্ছিত হয়ে অনাদরে অযত্নে পড়ে ছিল। এই বাড়িরই এক সদস্য দেবীর কাছ থেকে স্বপ্নাদেশ সেই দেবী মূর্তি উদ্ধার করে নিয়ে এসে  কুলদেবী রূপে পুজো করতে শুরু করেন।সেই থেকেই অষ্ট ধাতুর সেই মূর্তি কুল দেবী রূপে এবাড়িতে প্রতিষ্ঠিতা।

মনে করা হয় ওই ঘটনার পর থেকে লাহাদের ব্যাপক উন্নত হয়|পরবর্তীতে শিবচরণ লাহা ইংরেজদের সঙ্গে পেন খাতাপত্র এবং মূল্যবান রত্নের ব্যবসা করে প্রচুর অর্থ উপার্জন করেছিলেন। পুজোর জাঁকজমকও বাড়ে এই সময়।

এ বাড়িতে দেবী দুর্গার রূপ একটু ভিন্ন।
তিনি এখানে হরপার্বতী রূপে পূজিতা হন|লাহা বাড়ির পুজো হয় বৈষ্ণব মতে।শিবের কোলে দেবী দুর্গা উপবিষ্টা|মহিষাসুর থাকেনা, দেবীর হাতে কোনো অস্ত্রও থাকেনা|লাহাবাড়ির পুজোর রীতিও একটু আলাদা লাহাবাড়িতে কাঠামো পুজো হয় জন্মাষ্টমীর পরে এবং দেবীপক্ষের শুরুতে বোধন হয়|প্রথা মেনে এখানে অন্ন ভোগ হয় না এখানে ভোগের বিশেষত্ব নানা ধরণের মিষ্টি|এখনো বলী প্রথা পুরো পুরি লুপ্ত হয়নি তবে প্রাণী হত্যা হয়না|বলী হয় কুমড়ো বা শসা।তাছাড়া অষ্টমীতে ধুনো পোড়ানোর রীতি রয়েছে।

শুধু পূজো নয় বিসর্জন ঘিরেও এবাড়িতে রয়েছে কিছু অদ্ভুত প্রথা। দোলায় করে বিসর্জনে নিয়ে যাওয়া হয় দেবীকে। বিসর্জনের পর কাঠামো সংগ্রহ করে রাখা হয় পরের বছরের জন্য প্রতিমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে।বিসর্জন দিয়ে ফিরে বাড়ির পুরুষরা জিজ্ঞাসা করেন, ‘মা আছেন ঘরে’ ? তখন বাড়ির কোনও মহিলা ভিতর থেকে  উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ মা আছেন।‘ বাইরে থেকে ফের জিজ্ঞাসা করা হয় ‘মা আছেন ঘরে ?’ একই উত্তর দেওয়া হয় ভিতর থেকে। এভাবে পরপর তিনবার জিজ্ঞাসা করার পর সবাই ভেতরে প্রবেশ করেন।

ঐতিহ্য পূর্ণ বনেদি বাড়ির পূজো নিয়ে
ধারাবাহিক লেখায় আবার ফিরবো
আগামী পর্বে।থাকবে আরো একটি
জমিদার বাড়ির পূজো। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।