পুরান কথা – মধু কৈটভ বধ

13

পুরান কথা – মধু কৈটভ বধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পুরান কথায় আপনাদের দুই অত্যাচারী অসুর মধু এবং কৈটভের কথা জানাবো এবং জানাবো কিভাবে আদ্যাশক্তি মহামামায়ার ইচ্ছায় এই দুই দুরাত্মা বধ হয়েছিল নারায়ণের হাতে।

 

সৃষ্টির একদম আদি লগ্নে জীব জগৎ যখন সম্পূর্ণ ভাবে সৃষ্টি হয়নি এবং ত্রিভুবন জুড়ে শুধুই জল অনন্তনাগ নামে এক বিরাট সাপের উপর যোগনিদ্রায় নারায়ণ। আর তাঁর নাভিপদ্মের উপর বসে ধ্যানরত ব্রহ্মা। সেই সময় বিষ্ণুর কান থেকে জন্ম হয় দুই অসুরের।মধু এবং কৈটভ।

 

কঠোর তপস্যা শুরু করে তারা এবং দীর্ঘ তপস্যার পর তাদের সামনে হাজির হন দেবী সরস্বতী। তিনি দুই অসুরকে ইচ্ছামৃত্যুর বর প্রদান করেন। আর তা পেয়ে প্রথমেই তারা আক্রমণ করলো ব্রহ্মা এবং বিষ্ণুকে। ওই দুই অসুরের উপর অস্ত্র ব্যবহার করেননি নারায়ণ কারণ তারা নিরস্ত্র ছিলো।

কয়েক হাজার বছর ধরে বিষ্ণু আর ওই দুই অসুরের মধ্যে মল্লযুদ্ধ চলতে লাগল।

 

অবশেষে ব্রহ্মা শরণাপন্ন হলেন আদ্যাশক্তি মহামায়ার এবং সৃষ্টি রক্ষা করতে অবতীর্ণ হলেন মহামায়া।যুদ্ধে সরাসরি হস্তক্ষেপ না করে মধু ও কৈটভের উপর মায়া বিস্তার করলেন। মায়ায় আচ্ছন্ন হয়ে তারা বিষ্ণুকেই বর দিতে চাইল।

বিষ্ণু সুযোগ কাজে লাগালেন। তিনি বললেন তোমরা আমার হাতেই মরবে এই বর তোমরা আমাকে দাও। অসুররা রাজি হলেন তবে শর্ত দিলেন যে তাদের মারতে হবে এমন জায়গায় যেখানে জল নেই।তখন ত্রিভুবনে শুধুই জল।

তাই তারা ভেবে ছিলেন তাদের বধ করা অসাধ্য হবে।কিন্তু বিষ্ণু তাঁদের সুকৌশলে নিজের জানুতে শুইয়ে সুদর্শন চক্র দিয়ে তাদের মাথা ছিন্ন করে ফেললেন।

 

এই ভাবে আদ্যাশক্তি মহা মায়া এবং বিষ্ণুর যৌথ প্রয়াসে মধু এবং কৈটভের অত্যাচার থেকে রক্ষা

পেলো সৃষ্টি।একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা থেকে এই দুই অসুরের শরীরের মেদ থেকে তৈরি হল পৃথিবীর স্থল ভাগ তাই পৃথিবীর আরেক নাম মেদিনী।

 

আসন্ন মহা লয়া উপলক্ষে বিশেষ পর্ব নিয়ে

ফিরে আসবো আগামী দিনে। চলবে শাস্ত্রীয় এবং পৌরাণিক নানা বিষয় নিয়ে

আলোচনা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।