পুরান কথা – মহর্ষি ভৃগুর পরীক্ষা

11

পুরান কথা – মহর্ষি ভৃগুর পরীক্ষা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

সনাতন ধর্ম শাস্ত্রে যতজন বিখ্যাত ঋষি মুনীর উল্লেখ পাওয়া যায় ঋষি ভৃগু তাঁদের মধ্যে অন্যতম। আজ পুরান কথার এই পর্বে আপনাদের জানাবো কি ভাবে ঋষি ভৃগু একবার ব্রহ্মা বিষ্ণু এবং মহেশ্বরের অর্থাৎ ত্রিদেবের শ্রেষ্টত্ত্বর পরীক্ষা নিয়ে ছিলেন।

 

ভৃগুকে মহর্ষি ভৃগুও বলা হয়। তিনি হলেন ব্রহ্মার মানস পুত্র এবং সপ্তর্ষির একজন। জ্যোতিষ শাস্ত্রে তার ছিলো অগাধ পান্ডিত্য এবং তার ভবিষ্যত বাণী অক্ষরে অক্ষরে ফলে যেতো।অনেকেই তাঁকে জ্যোতিষ শাস্ত্রের প্রনেতা বলেও মনে করেন।

 

একবার ব্রহ্মাণ্ডের অন্যান্য ঋষিরা একত্রিত হয়ে প্রশ্ন তুললেন—ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বরের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ঋষি ভৃগুকে তিন দেবতার পরীক্ষা নেওয়ার দায়িত্ব দেওয়া হয়।

প্রথমে ভৃগু ব্রহ্মার কাছে গিয়ে তাঁকে যথাযথ সম্মান জানালেন না। এতে ব্রহ্মা ক্রুদ্ধ হলেও নিজেকে সংযত করলেন।বিদায় করলেন ভৃগুকে।

 

বিদায় নিয়ে এরপর ভৃগু গেলেন কৈলাসে মহাদেবের কাছে। সেখানেও নন্দী ভৃঙ্গী সহ অন্যান্য শিবের অনুচররা তাঁকে কৈলাসে প্রবেশ করতে দিলেন না কারন মহাদেব তখন কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ কাজে ব্যাস্ত ছিলেন।।

 

শেষে ভৃগু গেলেন বিষ্ণুর কাছে। বিষ্ণু তখন শয়ন করছিলেন।একাধিক স্থানে প্রত্যাখ্যাত হয়ে ভৃগু তখন ক্রোধন্নিত ছিলেন। বিষ্ণুকে জাগানোর জন্য ভৃগু তাঁর বুকে পদাঘাত করেন। কিন্তু বিষ্ণু ক্রুদ্ধ না হয়ে উঠে ভৃগুর পা ধরে বলেন, “আপনার পায়ে আঘাত লেগেছে কি?” তাঁর এই ক্ষমা, ধৈর্য ও বিনয় ভৃগুকে গভীরভাবে স্পর্শ করে।

মহর্ষি ভৃগু শ্রী বিষ্ণুর ব্যাবহারে অনুতপ্ত হলেন এবং

নিজের অন্তরে নিজের প্রশ্নের এবং সকল দ্বিধা দ্বন্দ্বর উত্তর খুঁজে পেলেন।

 

আসলে এই পরীক্ষা শুধু শ্রেষ্টত্ত্ব প্রমানের জন্য নয়। এই পরীক্ষা বুঝিয়ে দেয় সত্যিকারের মহত্ত্ব শুধু শক্তির মধ্যে নয়; ক্ষমা, ধৈর্য, বিনয় ও ভালোবাসার মধ্যেও মহত্ত্ব প্রকাশ পায়। ব্রহ্মা, বিষ্ণু ও মহেশ্বর পরম সত্যের তিনটি ভিন্ন প্রকাশ—তাঁদের তুলনা করার চেয়ে তাঁদের স্বরূপ ও মহিমাকে উপলব্ধি করাই এই লীলার মূল সার্থকতা।

 

পুরানে বর্ণিত এমন আরো অনেক ঘটনা নিয়ে

চলতে থাকবে পুরান কথা

ধারাবাহিক ভাবে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।