পুরান কথা – কালভৈরব

14

পুরান কথা – কালভৈরব

 

পন্ডিত জি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

শিবের বিভিন্ন রূপগুলির মধ্যে অন্যতম কাল ভৈরব যা শিবের অংশ বিশেষ। আজ পুরান থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে কাল ভৈরব রূপ

নিয়ে লিখবো।

 

শিব পুরান অনুযায়ী কোনো একসময় ব্রহ্মা নাকি কোনও ধর্মবিরোধী কাজ করেছিলেন যার ফলে শিব অত্যন্ত রেগে যান তাঁর উপর । তাই সৃষ্টিকর্তা ব্রহ্মাকে শিক্ষা দেওয়ার জন্য কালভৈরবকে সৃষ্টি করেছিলেন করেছিলেন শিব। অর্থ্যাৎ শিবের ক্রোধ থেকে জন্ম কাল ভৈরবের আর সেই কালভৈরবই ব্রহ্মার একটি মাথা কেটে নিয়েছিল। কিন্তু তারপর সেই ছিন্ন মস্তক ছুঁড়ে ফেলতে চাইলেও কালভৈরনের হাতেই আটকে ছিল সেটি।সেই অবস্থায় কিছু কাল ভ্রাম্যমান অবস্থায় কাটান তিনি |এদিকে ব্রহ্ম হত্যার পাপ অন্য দিকে এই অসহায় অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে কপাল ব্রত পালন করতে হয় তাঁকে।তাতেও তেমন ফল হয়না, অবশেষে কাশীতে আসার পর তাঁর হাত থেকে হটাৎ খোশে পড়ে যায় সেই মস্তক। তার পর শিব কাল ভৈরব কে নিষ্ঠা সহকারে কাশী তেই স্থাপন করেন এবং কাশীকে রক্ষা করার দায়িত্ব দেন কালভৈরবকে। তাই শিব হলেন কাশীর রাজা আর কালভৈরব তাঁর কোতোয়াল। তিনিই আশীর্বাদ করেন, তিনিই অভিশাপ দেন। এমনকি স্বয়ং যমরাজেরও নাকি কাশীবাসীকে শাস্তি দেওয়ার কোনও অধিকার নেই।কাশী তে কাল ভৈরব ই শেষ কথা।

 

আবার আরেকটি ব্যাখ্যা অনুসারে বৈষ্ণবদের পাপের শাস্তি দেয়ার ক্ষমতা যমের বা অন্য কোনো দেবতার নেই। তাই তাদের পাপ পুন্যর হিসেব করেন স্বয়ং কাল ভৈরব।

 

কাশীর কালভৈরব মন্দির ঘিরে রয়েছে অসংখ্য রহস্যময় আচার ও প্রথা,কথিত আছে কাল ভৈরব এর অনুমতি ছাড়া কাশী প্রবেশ বা এখানে থাকা সম্ভব নয়|

 

অনেকের কাছেই কালভৈরব শান্তি, সমৃদ্ধি ও সাফল্যের দেবতা, তার বাহন কুকুর।

পুরাণ মতে, কালভৈরব কাল বা সময়ের শাসক। বহু প্রাচীন মন্দিরে কালভৈরবের মূর্তি রয়েছে। এবং তিনি সেই মন্দিরের রক্ষক হিসেবে

বিবেচিত হন।

 

আগামী পর্বে অন্য কোনো পৌরাণিক বিষয়

নিয়ে ফিরবো। চলতে থাকবে

ধারাবাহিক পুরান কথা। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।