পুরান কথা – গণেশ পুজো কেনো আগে হয়
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দেবতাদের মধ্যে সর্ব প্রথম গণেশের পুজোর রীতি প্রচলিত রয়েছে সেই পুরাকাল থেকে, তার পুজোর পর হয় অন্য সব পুজো। আজ গণেশ চতুর্থী উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এক পৌরাণিক ঘটনা যেখান থেকে এই রীতির সূত্রপাত।
একটি পৌরাণিক ব্যাখ্যা অনুসারে গণেশের মুন্ডচ্ছেদের পর যখন তার মাথায় হাতির মাথা স্থাপন করা হয় তখন দেবী পার্বতী তার প্রিয় সন্তানের মন কষ্ট কিছুটা দুর করতে এবং দেবতা দের মধ্যে তার মর্যাদা অক্ষুন্ন রাখতে তাকে আশীর্বাদ করেন যে সমস্ত দেবতাদের মধ্যে
তার পূজো সবার প্রথমে হবে।
তবে গণেশের পূজো নিয়ে একটি পৌরাণিক ঘটনার উল্লেখ ও পাওয়া যায়। একবার
দেবলোকে কোন দেবতা শ্রেষ্ট এবং কার পূজা প্রথম হয়ে দরকার এই বিতর্ক দেখা দেয় এবং কিছুতেই এই বিতর্কের নিষ্পত্তি হচ্ছিল না, শেষে ঠিক হল, যে দেবতা ত্রিলোক পরিক্রমা করে একটি নিদ্দিষ্ট স্থানে প্রথমে পৌঁছবেন তিনিই শ্রেষ্ঠ এবং তাঁর পুজো প্রথম করা হবে।যেমন ভাবা তেমন কাজ|শুরু হলো প্রতিযোগিতা, অংশ নিলেন সব দেবতারা।ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে দেবতাগণ নিজ নিজ বাহনে চড়ে ত্রিলোক পরিক্রমা করতে চলে গেলেন।কিন্তু বুদ্ধিমান গণেশ সেই পথে গেলেননা তিনি তার পিতা মাতা অর্থাৎ শিব ও পার্বতীকে পরিক্রমা করলেন
সব দেবতারা যখন তার এই কর্মের ব্যাখ্যা চাইলেন তখন গণেশ বললেন পিতা মাতা তার সন্তানের জন্য ত্রিভুবন সমতুল্য|ত্রিলোকের সকল সুখ সম্পদ মাতা-পিতার চরণে বিরাজমান। মাতা-পিতার চরণের সেবাই সর্বোত্তম তাই পিতামাতার পরিক্রমা ত্রিলোক পরিক্রমার সমান।
যুক্তিতে জিতে গেলেন গণেশ, সব দেবতারা উপায় না দেখে গণেশদেবের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিলেন|সেই থেকে শুরু হয় সবার প্রথমে গণেশ পুজোর প্রচলন|আজও চলছে সেই রীতি।
সনাতন ধর্মে গণেশ বিঘ্নহর্তা এবং সিদ্ধিদাতা তাই তার আশীর্বাদে সব শুভ কাজ সফল হয় এবং বিঘ্ন নাশ হয়। তাই আজও যেকোনো শুভ কাজের সূচনা হয় গণেশ পুজোর মাধ্যমে।তাছাড়া বুদ্ধি এবং জ্ঞানের দেবতা রূপে পূজা করা হয়
গণেশকে। তাই ই যারা জ্ঞান বিজ্ঞান বা শিক্ষা নিয়ে চর্চা করেন তাদের আরাধ্যা দেবতা গণেশ।
ফিরে আসবো গণেশ সংক্রান্ত আরো কিছু
তথ্য এবং শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে
আগামী পর্বে।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
