গুরুকথা – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র 

13

গুরুকথা – শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন গুরু পূর্ণিমার এই পবিত্র তিথী উপলক্ষে গুরু তত্ব নিয়ে বা জগৎ বিখ্যাত গুরুদের নিয়ে উপস্থাপনা এক অনন্য সাধারণ অনুভূতি যে অনুভূতি আপনাদের সাথে ভাগ করে নিতে পেরে আমি অত্যান্ত আনন্দিত।আজকের পর্বে পরম পূজনীয় শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরকে নিয়ে বলবো।তার কথা যতই বলা হোক কথা শেষ হয় না এমনই অদ্ভুত এবং অলৌকিক জীবন ও আধ্যাত্মিক সাধনা।

 

অনুকূলচন্দ্র চক্রবর্তী ১৮৮৮ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশের পাবনা জেলার হিমায়তপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন|তাঁর পিতার নাম শিবচন্দ্র চক্রবর্তী এবং মাতার নাম ছিলো মনমোহিনী দেবী|

হিমায়তপুর গ্রামের প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁর শিক্ষা জীবন শুরু হয় পরে নৈহাটী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে স্কুল জীবনের পড়া শেষ করে তিনি কলকাতা ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজে ভর্তি হন|

 

অনুকূল চন্দ্রের পরিবার ছিলো উত্তর ভারতের যোগীপুরুষ শ্রী শ্রী হুজুর মহারাজের শিষ্য তবে ঠাকুর অনুকূলচন্দ্র মায়ের কাছেই দীক্ষা গ্রহন করেন|কঠোর পরিশ্রম ও দক্ষতার সঙ্গে তিনি জীবনে এগিয়ে চলেন, অনুকূলচন্দ্র ছিলেন একাধারে কবি, লেখক, ডাক্তার ও সর্বোপরি এক আধ্যাত্মিক ও ধর্মীয় গুরু|তিনি ছিলেন হিন্দু সমাজের একজন মহাপুরুষ, বিশ্ব মানবতাবাদী এবং পরম কৃষ্ণ ভক্ত।সারা জীবন তিনি চেষ্টা করে গেছেন কি ভাবে মানুষ ভাল থাকবে, সুস্থ থাকবে, শান্তিপূর্ণ ভাবে সবাই মিলে মিশে থাকবে|সেজন্য ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র সব সময় চাইতেন, তার অনুসারিরা সব সময় কৃষ্ণ ভক্তির পথে থাকুক|তাঁর এই দর্শন ও আদর্শ সাফল্যের সাথে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে তাঁর পরিবার ও অগণিত ভক্ত শিষ্যর।

 

তাঁর বহু ভক্ত শিষ্যও বহু অলৌকিক অভিজ্ঞতার কথা বলেছেন। যেমন তাঁর সান্নিধ্যে এলে মনের সব অন্ধকার দিক মুছে যেতো। প্রানে শান্তি পাওয়া যেতো। আবার অনেকে তাঁকে স্মরণ করে বহু দুরে থেকেও তাঁর দিব্য দর্শন পেয়েছেন। বহু রোগী তাঁর কৃপায় সুস্থ্য হয়েছেন এমন ও দাবী আছে।একবার হিমায়ত পুর গ্রামে কলেরা মহামারীর আকার নেয়। সেই সময় এক রাতে গ্রামের রাস্তায় শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুরের সামনে পরে যান এক রমণী। মুহূর্তে ঠাকুরের কপাল থেকে জ্যোতি বেরিয়ে ধেয়ে যায় সেই রহস্যময়ী রমণীর দিকে। তারপর সেই রমণী অদৃশ্য হয়। সেই রাতের পর কলেরা বিদায় নেয়

গ্রাম থেকে।

 

তবে লোক শিক্ষার জন্য তিনি চীরস্মরণীয়।শ্রী শ্রী অনুকূল ঠাকুর প্রায় ৪৬টি পুস্তক রচনা করেন|এগুলোতে ধর্মশিক্ষা, সমাজ সংস্কার প্রচলন প্রভৃতি বিষয়ে আদর্শ ও উপদেশসমূহ বর্ণিত হয়েছে।এগুলি ধর্ম ও আধ্যাত্মিকতার ক্ষেত্রে অত্যান্ত গুরুত্ব পুর্ন গ্রন্থ হিসেবে সর্বত্র সমাদৃত |বই গুলির মধ্যে উল্লেখযোগ্য, সত্যানুসরণ, পুণ্যপুথি, অনুশ্রুতি, চলার সাথী, শাশ্বতী, বিবাহ বিধায়না,সমাজ সন্দীপন ইত্যাদি।

 

পাবনা শহরের কাছে হেমায়েতপুর গ্রামে শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেন সৎসঙ্গ আশ্রম ও মন্দির যা আজ লক্ষ লক্ষ ভক্ত শিষ্যর কাছে এক মহান তীর্থ ক্ষেত্র|1946 সালে অনুকূল ঠাকুর পাবনা থেকে দেওঘর আসেন ও দেওঘর আশ্রম তৈরি করেন|এই দেওঘরেই 1969 সালে ঠাকুর পরলোক গমন করেন|আজ এই আশ্রম ও ঠাকুরের সংগ্রহশালা দেও ঘরের মুখ্য আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।

 

আবার যথা সময়ে ফিরে আসবো।

গুরু কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। চলতে থাকবে ধারাবাহিক লেখা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।