প্রভু জগন্নাথ এবং মহামারী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
প্রভু জগন্নাথের লীলার শেষ নেই।
রথ যাত্রা উপলক্ষে তাঁর অনেক গুলি লীলা নিয়ে ইতিমধ্যে লিখেছি আজ আরো একটি
অলৌকিক ঘটনা নিয়ে লিখবো।
একবার বাংলার নদীয়া জেলার কিছু অঞ্চলে ভয়াবহ মহামারী ছড়িয়ে পড়েছিল। অসংখ্য মানুষ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন, অনেকের প্রাণও চলে যাচ্ছিল। চারদিকে আতঙ্ক আর অসহায়তার পরিবেশ।ঠিক সেই সময়ে এক রাতে মায়াপুরের কাছে এক জগন্নাথ মন্দিরের পূজারী স্বপ্নে মহাপ্রভু জগন্নাথের দর্শন পান। স্বপ্নে প্রভু তাঁকে এমন এক বিশেষ ভেষজ ওষুধের কথা জানান, যা এই মহামারী থেকে মানুষকে রক্ষা করতে পারে।
পরদিন সকালে পূজারী গ্রামের মানুষদের নিয়ে সেই ওষুধ তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় সব ভেষজ সংগ্রহ করতে বেরিয়ে পড়েন।
সকল উপাদান সংগ্রহ করা গেলেও একটি বিশেষ গাছের ডাল কোথাও পাওয়া যাচ্ছিল না। কারণ সেই গাছ ওই অঞ্চলে জন্মাতই না। ফলে সবাই দুশ্চিন্তায় পড়ে গেলেন।
এই একটি উপাদান ছাড়া ওষুধ সম্পূর্ণ হবে না।
কিন্তু মহাপ্রভুর ইচ্ছা যে ভিন্ন ছিল!
সেদিন বিকেলে এক ছোট্ট বালক মন্দিরে এসে পূজারীর স্ত্রীর হাতে ঠিক সেই গাছের ডালটি দিয়ে চলে যায়। কিছুক্ষণ পরে পূজারী ফিরে এসে ডালটি দেখে আনন্দে বলে ওঠেন, “এটাই তো সেই শেষ উপাদান, যার জন্য আমরা অপেক্ষা করছিলাম!”তিনি জানতে চান, কে এই ডাল এনে দিয়েছে? পূজারীর স্ত্রী জানান, এক অত্যন্ত সুন্দর ও অচেনা ছোট ছেলে এটি দিয়ে গেছে। গ্রামের কেউ তাকে আগে কখনও দেখেনি।পূজারী প্রভু জগন্নাথকে প্রনাম করে তার নাম স্মরণ করে ওষুধ তৈরীর কাজে লেগে পড়েন।
যথা সময়ে সেই দিব্য ভেষজ ওষুধ তৈরি করে রোগীদের দেওয়া হয়। ধীরে ধীরে মহামারীর প্রকোপ কমে আসে এবং অসংখ্য মানুষ সুস্থ হয়ে ওঠেন। আসল সত্য জানার পর সবাই বিশ্বাস করেন, সেই অচেনা বালক আর কেউ নন স্বয়ং মহাপ্রভু জগন্নাথই ভক্তদের রক্ষা করতে বালকের রূপে আবির্ভূত হয়েছিলেন।
জগন্নাথদেব তাঁর ভক্তদের সকল বিপদ
থেকে রক্ষা করে এই ঘটনা থেকে আরো একবার প্রমাণিত হয়। ফিরে আসবো
আগামী পর্বে উল্টো সংক্রান্ত শাস্ত্রীয়
লেখা নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
