শ্রী জগন্নাথদেবের বিভিন্ন বেশ

8

শ্রী জগন্নাথদেবের বিভিন্ন বেশ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

পুরীর শ্রীজগন্নাথ মন্দিরে মহাপ্রভু জগন্নাথকে সারা বছর বিভিন্ন তিথি, উৎসব ও আচার-অনুষ্ঠান উপলক্ষে নানা রূপে সজ্জিত করা হয়। এই বিশেষ অলঙ্করণকে বলা হয় “বেশ”। মন্দির-পরম্পরায় প্রচলিত আছে যে, মহাপ্রভু বছরে মোট ৩২টি বিশেষ বেশ ধারণ করেন। প্রতিটি বেশের মধ্যেই লুকিয়ে রয়েছে ভগবানের এক একটি লীলা, তত্ত্ব ও ভক্তদের জন্য গভীর আধ্যাত্মিক শিক্ষা।
আগে আপনাদের গজ বেশ বা হাতি বেশ নিয়ে বলেছি আজ আরো কয়েকটি বেশ নিয়ে লিখবো।

পদ্মবেশ

অসংখ্য পদ্মফুল দিয়ে মহাপ্রভুকে সাজানো হয়। এটি ভক্তির পবিত্রতা ও নির্মলতার প্রতীক।

সোনাবেশ – রথযাত্রার পর বহুড়া যাত্রার পরদিন স্বর্ণালঙ্কারে মহাপ্রভু সজ্জিত হন। এটি ঐশ্বর্য ও সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের মহিমা প্রকাশ করে।

রাজাধিরাজ বেশ-
রাজবেশে সজ্জিত হয়ে মহাপ্রভু জানান, তিনিই সমগ্র বিশ্বের অধিপতি।

রাধা-দামোদর বেশ – শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার প্রেমলীলা স্মরণে এই বেশ ধারণ করা হয়।

লক্ষ্মী-নারায়ণ বেশ-
মহালক্ষ্মী ও নারায়ণের ঐশ্বর্যময় রূপের প্রতীক এই বেশ।

কালীয়দমন বেশ-
যমুনার কালীয় নাগকে দমন করার শ্রীকৃষ্ণের লীলা স্মরণে এই সাজ।

গজউদ্ধারণ বেশ- ভক্ত গজেন্দ্রকে রক্ষা করার সময়ে বিষ্ণুর করুণাময় রূপের প্রকাশ এই বেশ।

বনভোজি বেশ-
বৃন্দাবনের গোপবালকদের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের বনভোজন লীলার স্মৃতি বহন করে এই বেশ।

নাগার্জুন বেশ-
বিরল এই বেশ বিশেষ তিথিতে অনুষ্ঠিত হয় এবং মহাপ্রভুর বীর রূপ প্রকাশ করে।

গণেশ বেশ-
ভক্তদের মঙ্গল ও বিঘ্ননাশের প্রতীক হিসেবে এই বেশ পালিত হয়।

চাচেরী বেশ-
চন্দন, ফুল ও অলঙ্কারে সজ্জিত এই বেশ গ্রীষ্মকালের একটি বিশেষ আকর্ষণ।

প্রভু জগন্নাথের বিভিন্ন বেশ দর্শনের জন্য প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ভক্ত সমবেত হন। মহাপ্রভুর প্রতিটি রূপ ভক্তের হৃদয়ে নতুন ভক্তি, আনন্দ ও ঈশ্বরপ্রেমের সঞ্চার করে।

আগামী সময়ে এই ধারাবাহিক উপস্থাপনায়
শ্রী জগন্নাথের আরো কিছু বেশ এবং
তাদের শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা নিয়ে
ফিরে আসবো।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।