প্রভূ জগন্নাথের শাস্তি প্রদান

5

প্রভূ জগন্নাথের শাস্তি প্রদান

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথের লীলা শুধু শ্রী ক্ষেত্র পুরীতেই সীমাবদ্ধ নয়। তিনি সর্বত্র বিরাজমান। সর্বত্র তার লীলা চলছে। আজ আপনাদের মায়া পুরের কাছে রাজা পুরে একটি জগন্নাথ মন্দিরের এক অলৌকিক ঘটনা জানাবো।

 

এক গওয়ালা নিয়মিত জগন্নাথের সেবার জন্য দুধ নিয়ে আসতো। প্রথমদিকে সে অত্যন্ত নিষ্ঠার সঙ্গে খাঁটি দুধ দিত। কিন্তু লোভের বশবর্তী হয়ে একসময় সে দুধে জল মেশাতে শুরু করে। বাইরে থেকে দুধের কোনো পার্থক্য বোঝা যেত না, তাই সে ভাবল তার প্রতারণা কেউ ধরতে পারবে না।

কিন্তু যিনি সমগ্র জগতের অন্তর্যামী, তাঁর কাছ থেকে কিছুই গোপন থাকে না। ধীরে ধীরে সেই গোয়ালার সংসারে একের পর এক বিপদ নেমে এল। গরুগুলো অসুস্থ হতে লাগল, ব্যবসায় লোকসান হলো, আর পরিবারের শান্তিও নষ্ট হয়ে গেল। যতই চেষ্টা করুক, কোনোভাবেই সে দুর্দশা থেকে মুক্তি পাচ্ছিল না।আশ্চর্য ভাবে প্রতিদিন তার দুধ নষ্ট হয়ে যেতে লাগলো।

 

একদিন সে মন্দিরের পুরোহিতের কাছে গিয়ে সব বিস্তারিত ভাবে বললো। পুরোহিত জিগেস করলেন যে সে কি জগন্নাথের জন্য আনা দুধে জল দেয়। গওয়ালা নিজের দোষ স্বীকার করলো।পুরোহিত জানান এই অপরাধের জন্য প্রভু তাকে স্বাস্তি দিয়েছেন।গোয়ালা নিজের ভুল উপলব্ধি করল। সে মন্দিরে গিয়ে শ্রীজগন্নাথদেবের চরণে কাঁদতে কাঁদতে ক্ষমা প্রার্থনা করল এবং প্রতিজ্ঞা করল যে জীবনে আর কখনও ভেজাল দেবে না। এরপর থেকে সে সর্বদা খাঁটি দুধই নিবেদন করতে লাগল এবং সততার সঙ্গে ব্যবসা চালাতে শুরু করল।

কিছুদিনের মধ্যেই তার জীবনে আবার সুখ-সমৃদ্ধি ফিরে এল। গরুগুলো সুস্থ হয়ে উঠল, ব্যবসাও ভালো চলতে লাগল। সে বুঝতে পারল প্রভু তাকে ক্ষমা করেছেন।

 

জগন্নাথের যেমন তাঁর ভক্তদের অত্যন্ত স্নেহ করেন অন্যায় বা পাপ করলে তাদের শাস্তিও দেন সৎ পথে চালিত করেন।

 

ফিরে আসবো জগন্নাথ সংক্রান্ত

পরবর্তী পর্ব নিয়ে। আবার যথা সময়ে।

পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।