জগন্নাথ মূর্তি রহস্য

6

জগন্নাথ মূর্তি রহস্য

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

এই মুহূর্তে পুরীতে জ্বর আক্রান্ত প্রভু জগন্নাথ বিশ্রাম নিচ্ছেন।আর কদিন পরেই রথযাত্রার দিন রাজকীয় রথে চড়ে ভক্তদের দর্শন দেবেন জগন্নাথ আমরা প্রত্যেকে নিশ্চয়ই লক্ষ্য করেছি যে জগন্নাথ মূর্তি একটু বিচিত্র এবং ব্যতিক্রমী।তাঁদের কারও হাত নেই। এমনকি চোখের পাতাও নেই।আরো অনেক রহস্য লুকিয়ে আছে প্রভু জগন্নাথের

মূর্তি তে|আজকের এই পর্বে জানবো সেই

সব রহস্য|

 

হিন্দু ধর্মের অন্যান্য দেবতাদের মূর্তি বা প্রতিমার সঙ্গে জগন্নাথের বিগ্রহের কিছু পার্থক্য রয়েছে। দেবতাদের বিগ্রহ সাধারণত আমরা সোনা, রুপো, তামা কিংবা বিভিন্নরকম ধাতু এমনকি মাটি দিয়েও তৈরি হয়। কিন্তু জগন্নাথের বিগ্রহ তৈরি হয় নিম কাঠ দিয়ে। বিগ্রহের আকারও বিচিত্র। চৌকো মাথা, বড় বড় চোখ এবং অসম্পূর্ণ হাত।

‘নব-কলেবর’ নামের রহস্যময় এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিয়মিত নিদ্দিষ্ট সময়ের ব্যাবধানে দেবতার পুরোনো মূর্তি সরিয়ে নতুন মূর্তি বসানো হয় আর পুরোনো মূর্তির আত্মা বা ব্রহ্ম পদার্থ নতুন মূর্তিতে সঞ্চারিত হয় – এটাই পূজারীদের বিশ্বাস।

 

জগন্নাথ মন্দিরে ‘গর্ভগৃহ’ বা মূল কেন্দ্রস্থলে এই অতি গোপনীয় প্রথার সময়ে পুরোহিতদের চোখ আর হাত বাঁধা থাকে – যাতে নব কলেবর সংক্রান্ত কিছু রীতি নীতি গোপন থাকে চীর কালের জন্য। হয়তো প্রভুর তেমনই ইচ্ছে বা আদেশ।

 

প্রভু জগন্নাথের মূর্তিতে চোখের পাতা নেই|এর একটা কারন তিনি জগতের নাথ এবং তিনি সদা জাগ্রত|একটি মুহূর্তের জন্যও তিনি দেখা বন্ধ করেননা|তিনি পরম দয়ালু তাই প্রতি মুহূর্তে তার ভক্তদের উপর তার কৃপা দৃষ্টি নিক্ষেপিত হয়।

 

“যে গাছের কাঠ দিয়ে জগন্নাথের মূর্তি তৈরী হতে পারে, তার এগারোটা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। ”

“যেমন গাছের গায়ে হাতির শুঁড় ও চোখের আকৃতি স্পষ্ট থাকতে হবে, গাছের সাথে সাপ জড়িয়ে থাকবে, উঁইয়ের ঢিপি থাকবে ইত্যাদি।”

প্রায় দুমাস ধরে কঠিন পরিশ্রমের মধ্যে দিয়ে ওই গাছ খুঁজে বার করে তারপরে মহাযজ্ঞ এবং আরো অনুষ্ঠান করে শুরু হয় মূর্তি নির্মাণ।

 

জগন্নাথ দেবের হাত অসম্পূর্ণ। কারন তার মূর্তি তৈরীর সময়ে নিষেধ না মেনে খুলে দেয়া হয় নির্মাণ গৃহের দরজা যার ফলে অসম্পূর্ণ থেকে যায় মূর্তি নির্মাণ এবং সেই রূপেই পূজিত হন জগন্নাথ।

 

পুরী ধাম এবং জগন্নাথ মূর্তি নিয়ে রহস্যর শেষ নেই। ফিরে আসবো আরো অনেক তথ্য এবং ব্যাখ্যা নিয়ে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।