জগন্নাথমন্দির এবং যম শীলা

6

জগন্নাথমন্দির এবং যম শীলা

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আগামী ২৯ জুন প্রভু জগন্নাথের স্নান

যাত্রা উপলক্ষে আজ থেকে প্রভু জগন্নাথ এবং জগন্নাথ ধাম সংক্রান্ত নানা বিষয় নিয়ে ধারাবাহিক ভাবে লিখছি ।আজকের পর্বে জগন্নাথ মন্দিরের একটি রহস্য আপনাদের সামনে তুলে ধরবো।

 

পুরীর মন্দিরের সিঁড়ি হয়তো আপনারা অনেকেই দেখেছেন। এই সিঁড়ি দিয়ে উঠেই জগন্নাথ দেবের রত্নবেদী এবং বিগ্রহ দর্শন করা হয়।বলা হয় এই মন্দিরের সিঁড়ির তৃতীয় ধাপে কখনোই পা দিতে নেই। জগন্নাথ মন্দিরের সিঁড়ির তৃতীয় ধাপকে ‘যম শিলা’ বলা হয়।

 

শাস্ত্র মতে জগন্নাথ মন্দিরে দর্শন করে ভক্তেরা মুক্তি পেয়ে যান।পাপ খণ্ডন হয়। গ্রহ দোষ নাশ হয়।মৃত্যুর পর তাঁদের আর স্বর্গ বা নরকবাস করতে হয় না। এই কারনে এক সময়ে যমলোক প্রায় শূন্য হওয়ার উপক্রম হয় তখন বেগতিক দেখে যমরাজ স্বয়ং জগন্নাথ মন্দিরে এসে প্রভু জগন্নাথের দর্শন করেন এবং তিনি জগন্নাথদেবকে এই সমস্যা সম্পর্কে বলেন এবং সব শুনে জগন্নাথদেব মন্দিরের মূল দরজার সিঁড়ির তৃতীয় ধাপে মৃত্যুর দেবতা যমকে অবস্থান করতে বলেন।

 

সেই থেকে জগন্নাথ মন্দিরের সিঁড়ির তৃতীয় ধাপে বাস করেন স্বয়ং যম এবং সিঁড়ির তৃতীয় ধাপকে তাই ‘যম শিলা’ বলা হয়। জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রাকে দর্শনের পর এই সিঁড়িতে পা দিলেই দর্শনের যাবতীয় পূণ্য নষ্ট হবে এবং ওই ব্যক্তিকে মৃত্যুর পর যমলোক যেতে হবে।

 

এই ভাবে জগন্নাথ দেব ভক্ত যমের মনোস্কামনা পূরণ করেন এবং পাপ পুণ্যের ভারসাম্য রক্ষা করেন।জগন্নাথ মন্দিরের অসংখ্য রহস্যর মধ্যে এও এক বড় রহস্য।

 

এ থেকে আরো একটা বিষয় স্পষ্ট হয় যে জগন্নাথ প্রকৃত অর্থে জগতের নাথ। শুধু মানুষ নয় দেবতারাও বিপদে পরে তার স্মরণাপন্ন হন এবং কাউকেই তিনি খালি হাতে ফেরান না।

 

ফিরে আসবো প্রভু জগন্নাথ সংক্রান্ত

পৌরাণিক এবং শাস্ত্রীয় বিষয় নিয়ে

আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।