লৌকিক দেব দেবী – দেবী বাসুলী

7

লৌকিক দেব দেবী – দেবী বাসুলী

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

দেবী বাসুলী বাংলার অন্যতম জাগ্রতা লৌকিক দেবী। দেবী সর্বাধিক জনপ্রিয় বাঁকুড়ায় । বাঁকুড়া ছাড়াও পুরুলিয়া এবং দক্ষিণবঙ্গের কিছু

স্থানেও দেবী বাসুলীর পূজো হয়।

 

বাঁকুড়ার ছাতনা অঞ্চলে রয়েছে অতি প্রাচীন বাসুলী দেবীর মন্দির।এককালে ছাতনা অঞ্চল ছিলো বাঁকুড়া রাজধানী। একবার বাঁকুড়ার এক রাজা স্বপ্নাদেশ পেয়েছিলেন মা বাসুলির ৷ স্বপ্নাদেশ অনুযায়ী বাসুলি দেবীর মূর্তি তৈরি করান। পূজো শুরু করেন।তারপর থেকে গোটা বাঁকুড়ার জনপ্রিয় দেবী হিসেবে বাসলী মায়ের পূজা হতে শুরু হয়।তৈরী হয় বাসুলী দেবীর একাধিক মন্দির।কালের নিয়মে বহু মন্দির আজ অস্তিত্ব হারিয়েছে তবু টিকে আছে কিছু।

আজও স্বমহিমায় রাঢ় বঙ্গে বিরাজ করছেন

দেবী বাসুলী।

 

দেবীকে মা কালীরই একটি লৌকিক রূপ বলে মনে করা হয়।আবার কারোর কাছে তিনি দেবী

দুর্গার লৌকিক রূপ।দেবী দ্বিভূজা ও রক্তবর্ণা। দেবী কালীর মতোই মহাদেবের উপর দণ্ডায়মানা এবং মুণ্ডমালা ও পরিহিতা।হাতে রয়েছে হাতে খড়গ দেবীকে রক্তসরস্বতী হিসেবে ভাবা হয়।আবার মূলত দক্ষিণ বঙ্গের দেবী বিশালক্ষী মাতাকেও অনেকে বাসুলী দেবীর একটি রূপ বলেই মনে করেন।

 

শ্রীকৃষ্ণকীর্তন কাব্যের রচয়িতা বড়ু চণ্ডীদাস বাসুলী দেবীর আরাধনা করতেন এমন তথ্য প্রাচীন কিছু গ্রন্থে পাওয়া যায়।কিছু বাসুলী দেবীর মন্দিরে সম্পূর্ণ তন্ত্রমতে তিনি পুজো পান। আবার কিছু স্থানে তান্ত্রিক এবং বৈষ্ণব উভয় মিশ্রিত পদ্ধতিতে পুজো হয়।

 

বাঁকুড়ার পাত্রসায়রের বাসুলী মন্দিরে মূলত গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের লোকজনের বাস। এরা জলপথে বাণিজ্যের লবণ ব্যবসায়ের সঙ্গেই জড়িত ছিল।লবন ব্যাবসায়ী গন্ধবণিক সম্প্রদায়ের মধ্যে দেবী বাসুলীর জনপ্রিয়তার জন্য অনেকে মনে করেন হয়তো দেবী এক সময়ে লবণের দেবী ছিলেন।নদীমাতৃক বাংলায় একদিকে যেমন দক্ষিণরায় বা বনবিবি পূজিত হতেন তেমনই ব্যাবসার কল্যানে লবণের একজন অধিস্টাত্রী দেবী থাকবেন তাতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 

দেবী বাসুলী হন বা বিশালক্ষী বা রক্ত সরস্বতী। তার ভক্তদের কাছে তিনি পরম দয়াময়ী এবং

সবার মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস।

 

এখনো বহু লৌকিক দেব দেবী নিয়ে লেখা

বাকি আছে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। ধারাবাহিক লেখা নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।