কালী কথা – হলদে কালী বাড়ি
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
পানিহাটি প্রাচীন এবং বিখ্যাত কালী মন্দির হলো হলদে কালী মন্দির বা হলদে কালী বাড়ি।
যদিও দেবীর গাত্রবর্ণ হলুদ নয় তবু এই কালী মন্দিরকে হলদে কালী বাড়ি বলা হয়। কেনো এমন নাম সে প্রসঙ্গে পরে আসবো আগে এই মন্দিরের ইতিহাস জেনে নেয়া যাক।
হলদে কালী বাড়ির বয়স প্রায় সাড়ে তিনশো বছর। কেদারনাথ মুখোপাধ্যায় ১৬৯৪ সালে মন্দিরটি প্রতিষ্ঠা করেন। কেদারনাথ ছিলেন কালী ভক্ত এবং তন্ত্র সাধক। কেদারনাথ মুখোপাধ্যায় বেনারসে তাঁর গুরুর কাছে তন্ত্র দীক্ষা নেন। মন্দির প্রতিষ্ঠার সময় কাশীধাম থেকে কষ্টিপাথরের কালী বিগ্রহ নিয়ে আসা হয়েছিল। সেই মূর্তিই এখানে প্রতিষ্ঠা করা হয়। মাতৃমূর্তি চতুর্ভুজা।মন্দিরের দেবী কালী হলেন দক্ষিণা কালী।
প্রতিষ্ঠাতা চক্রবর্তী পরিবারের বংশধরেরাই আজও মন্দিরের দেখভাল করছেন। মন্দিরে নিত্যপুজো হয়। সন্ধ্যায় আরতি হয়।প্রতি অমাবস্যায় ধুমধাম করে কালী পূজো হয়।
এক কালে বলী প্রথা থাকলেও
মায়ের স্বপ্নাদেশে এখন বলিদান বন্ধ।
মন্দিরের প্রবেশদ্বারের বাঁ দিকে রয়েছে পঞ্চমুণ্ডীর ঘর।জনশ্রুতি আছে প্রতি রাতে মন্দিরের দরজা বন্ধ করার পরও ভিতর থেকে ধূপ-ধুনোর সুগন্ধ ভেসে আসে। গভীর রাতে দেবী কালীর বিচরণভূমিতে পরিণত হয় মন্দির চত্ত্বর।
শোনা যায় একবার দেবী নাকি এক অসুস্থ ভক্তের কপালে হাত রেখে তাঁর রোগ সারিয়ে দিয়েছিলেন।
কথিত আছে এই মন্দিরে অর্পণ করা হলদু অতি পবিত্র।এক সময়ে এই এলাকায় এই মন্দির থেকে হলুদ না-গেলে গায়ে-হলুদের অনুষ্ঠান বা বিয়ে হত না। সেই থেকেই মন্দিরের নাম হয় হলুদ কালী বাড়ি বা হলদে কালী বাড়ি।
ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে অন্য এক কালী মন্দিরের ইতিহাস। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
