শিব অবতার – সদাশিব
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
শিবের একাধিক রূদ্র বা তেজময় রূপ নিয়ে ইতিপূর্বে আলোচনা করেছি এই ধারাবাহিক শিব অবতার পর্বে। আজ শিবের একটি শান্ত এবং যোগী রূপ নিয়ে লিখবো। আজকের পর্বে শিবের সদাশিব রূপ।
ভারতের একাধিক প্রাচীন মন্দির বিশেষ করে এলিফ্যান্টা বা মাদুরাইয়ের মতো প্রাচীন ধর্মীয় স্থাপত্য গুলিতে শিবের এই শদাশিব মূর্তি দেখা যায়।এই রূপে সাধারণত শিবের পাঁচটি মাথা মাথা থাকে।পাঁচটি মাথা যথাক্রমে সৃষ্টি, পালন, সংহার, মায়া এবং মুক্তিকে নির্দেশ করে।
সদাশিব রূপটি হলো পুরাণে বর্ণিত শিবের সর্বোচ্চ, অতীন্দ্রিয় ও শাশ্বত রূপ, যিনি “অনন্ত শুভ” বা পরম সত্তার প্রতীক।এই রূপটি আধ্যাত্মিক জ্ঞান এবং আনন্দের সর্বোচ্চ অবস্থা বলে ধরা হয়।
এই অবতারে শিব সৃষ্টির সংহার কর্তা নন এখানে তিনি শান্ত এবং সৌম।সদাশিব রূপটি শিবের অসীম ও রূপাতীত দিককে উপস্থাপন করে।
আবার কোনো কোনো শাস্ত্রে বিশেষ করে যোগ এবং তন্ত্রে সদাশিবকে পরম চেতনা বলা হয়।
আসলে সদাশিব সাকার এবং নিরাকার এই দুই রূপের সমন্বয়। শিব যখন শান্ত এবং ধ্যানমগ্ন। সৃষ্টি এবং প্রলয়ের উর্ধে তখনই তিনি সদাশিব।
শাস্ত্র মতে শিবের সদাশিব রূপের পূজো করলে মন শান্ত হয়। আধ্যাত্মিক শক্তি বৃদ্ধি হয়। ভয় এবং নেতিবাচক শক্তি পরাস্ত হয়ে।
চৈত্র মাস জুড়ে চলতে থাকবে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী
অবতার নিয়ে আলোচনায়। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
