কৃষ্ণ কথা – কুরুক্ষেত্রে শ্রী কৃষ্ণ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
সনাতন ধর্মে দেবতা অনেক আছে কিন্তু ভগবান একজনই|তিনি শ্রী কৃষ্ণ|তার মধ্যে সর্বগুন সর্বোচ্চ মাত্রায় বর্তমান তাই তিনি ভগবান|জন্মাষ্টমীতে যেমন তার বালক রূপ অর্থাৎ গোপাল রূপের পুজো হয় তেমনই কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে তিনি একজন সারথী। অর্জুনের শিক্ষক এবং বিশ্বরূপ দেখিয়ে তার বিরাটত্ত্ব দেখিয়েছিলেন।
কুরুক্ষেত্রে তিনি নিজে যুদ্ধ করেননি। অস্ত্র হাতে তুলে নেননি, তবে কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে কৃষ্ণকে অর্জুন নিজের বিশ্বরূপ দেখানোর অনুরোধ করেন
তখন কৃষ্ণ বলেন-কিন্তু তুমি নিজের এই চোখ দিয়ে আমার দিব্য রূপ দেখতে পারবে না। তাই আমি তোমায় দিব্য চক্ষু দিচ্ছি। যার সাহায্যে তুমি আমার ঐশ্বরিক ক্ষমতা দেখতে পারবে|
এরপর অর্জুনকে দিব্য দৃষ্টি দিয়ে শ্রীকৃষ্ণ তাঁকে নিজের পরম ঐশ্বরিক বিরাট রূপ দেখান।গোটা বিশ্ব ব্রম্ভান্ড যেনো এই রূপের কাছে তুচ্ছ|মনে করা হয় যদি আকাশে একসঙ্গে হাজার সূর্যোদয় হয়, তখনও তাদের সকলের প্রকাশ মিলে সেই বিরাট রূপের প্রকাশের সামনে দাঁড়াতে পারবে না।
শ্রী কৃষ্ণের এই রূপে অনেক মুখ ও চোখ আছে, অনেক অলৌকিক অলঙ্কার আছে, হাতে নানান দিব্য অস্ত্র-শস্ত্র আছে এবং তার গলায় নানান ধরণের দিব্য মালা আছে| তিনি একপ্রকার অলৌকিক বস্ত্র পরে আছেন ও যাঁর ললাট ও শরীরে দিব্য চন্দন, কুমকুম ইত্যাদি লাগানো রয়েছে।
শাস্ত্রে উল্লেখ আছে এমন বিরাট রূপ দেখে অর্জুন আশ্চর্যচকিত হয়ে পড়েন এবং তাঁর শিহরণ দেখা দেয়। তিনি করজোড়ে এবং মাথা নুইয়ে প্রণাম করে বিরাট রূপ শ্রীকৃষ্ণের স্তুতি করতে শুরু করেন।
ভগবানের কুরুক্ষেত্র যুদ্ধে ন্যায়ের পক্ষ নেন। অধর্ম নাশ করে ধর্ম পুনরুদ্ধার করতে সাহায্য করেন। তবে জ্ঞানের মাধ্যমে। তার সেই জ্ঞান এবং শ্রীমুখ নিঃসৃত বাণীই ভগবত গীতা যা বিশ্বের সর্বাধিক জনপ্রিয় এবং মূল্যবান শাস্ত্র।
আসন্ন দোল পূর্ণিমা উপলক্ষে চলতে থাকবে কৃষ্ণ কথা। ফিরে আসবো শ্রী কৃষ্ণ সংক্রান্ত
আরো একটি পর্ব নিয়ে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|
