শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

11

শিব কথা – শিব এবং নন্দী – ভৃঙ্গী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

শিবের পাশে সর্বদা থাকেন তার একান্ত প্রিয় দুই অনুচর নন্দী এবং ভৃঙ্গী। অনেক শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে আজ এই দুই শিবের এই দুই সঙ্গী সম্পর্কে জানাবো।

নন্দী ও ভৃঙ্গী কে নিয়ে শাস্ত্রে অনেক কথাই বলা আছে কূর্ম পুরাণে নন্দী প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, মহাদেবের এই প্রধান অনুচরটি করালদর্শন, বামন, বিকটাকার, মুণ্ডিতমস্তক, ক্ষুদ্রবাহু ও মহাবল।পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান।

শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন ও নিজের বাহন হিসেবে স্থান দেন|রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন, পরে তাই হয়েছিলো|বজরংবলী রাবনের পতনের অন্যতম কারন।

নন্দীর ন্যায় ভৃঙ্গীও শিবের অনুচর। নন্দী যেমন হৃষ্টপুষ্ট, ভৃঙ্গী তেমনই রুগ্ন , কঙ্কালসার। ভৃঙ্গী আগে ছিলেন এক মুনি, শিবের উপাসক। তিনি শিবের সাথে পুজোয় কিছুতেই রাজি নন। ক্রুদ্ধ পার্বতী অভিশাপ ভৃঙ্গী কে অভিশাপ দিলেন। সেই অভিশাপে ভৃঙ্গী কঙ্কালে পরিণত হলেন। দু’পায়ে আর দাঁড়াতে পারেন না তিনি, তখন শিবের আশীর্বাদে তাঁর তৃতীয় চরণের সৃষ্টি হল। কিন্তু তবু ভৃঙ্গী পার্বতীর পুজো করবেন না। তখন শিব তাঁকে নিজের অর্ধনারীশ্বর রূপ দেখালেন, যাতে তিনি বুঝতে পারেন যে পার্বতী শিবেরই অংশ। পরবর্তীতে তিনিও হয়ে উঠলেন শিবের অনুচর, একত্রে উচ্চারি হতে শুরু হয় নন্দী ও ভৃঙ্গীর নাম|

শিবের সাথে নন্দী ভৃঙ্গীর সম্পর্ক এতটাই গভীর যে নন্দী ভৃঙ্গী ছাড়া শিবকে কল্পনা করা যায়না।যেখানে শিব সেখানেই তার এই দুই অনুচর স্বমহিমায় বিরাজমান।

আসন্ন শিব রাত্রি উপলক্ষে শিব সংক্রান্ত পৌরাণিক এবং ধারাবাহিক আলোচনা চলতে থাকবে।শিব রাত্রিতে যারা জ্যোতিষ মতে প্রতিকার গ্রহন করতে চান তারা যোগাযোগ করতে পারেন। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|