দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – কেদারনাথ
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গর মধ্যে অন্যতম জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির হলো উত্তর ভারতের হিমালয়ের পাদদেশে অবস্থিত কেদারনাথ ধাম।আজ লিখবো এই জ্যোতির্লিঙ্গটি নিয়ে।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে পান্ডবরা বহু স্বজন কে হত্যা কোরেছিলো সেই পাপ থেকে মুক্তি পেতে পান্ডবরা শিবের শরণাপন্ন হন কিন্তু শিব তাদের ক্ষমা করতে প্রস্তুত ছিলেন না তাই তিনি একটি ষাঁড় এর রূপ ধরে গা ঢাকা দেন।কিছুকাল অনুসন্ধান চালানোর পর পান্ডব রা তার স্বরূপ চিনতে পারেন ও ভীম বহু চেষ্টার পর ষাঁড়রুপি শিব কে ধরে ফেলেন তখন শিব বাধ্য হয়ে নিজ মূর্তিতে আবির্ভুত হন, এই আবির্ভাবের মুহূর্তে ষাঁড়রুপি শিবের শরীরের যে অংশ যেখানে অবস্থান করছিলো সেখানে একটি করে শিব মন্দির সৃষ্টি হয় শিব রুপী ষাঁড়ের পৃষ্ঠদেশ ছিলো কেদারনাথে। কেদারনাথ একটি জ্যোতির্লিঙ্গের স্বীকৃতি পায়।
স্কন্দ পুরান অনুসারে কেদারনাথ এর এই পবিত্র স্থানেই শিব তার জটা থেকে মুক্ত করে ছিলো গঙ্গাকে|দেবাদিদেব এখানে পূজিত হন কেদার হিসেবে|প্রাচীন কালে এই অঞ্চলের নাম ছিলো কেদারখন্ড|
স্বাভাবিক ভাবেই আদি কেদারনাথ মন্দির প্রকৃতপক্ষে কবে নির্মাণ হয়েছিলো তার কোনো নিদ্দিষ্ট নথি নেই|মন্দির প্রাঙ্গনে আছে বিশালাকার নন্দীর মূর্তি, অভ্যন্তরে কৃষ্ণ ও স্বস্ত্রীক পঞ্চ পাণ্ডবের মূর্তি খোদাই করা আছে|ত্রিকোণাকৃতি জ্যোতির্লিঙ্গ টি রয়েছে মুলমন্দিরের এক বিশেষ গর্ভগৃহে|মনে করা হয় এক হাজার বছর আগে আদি শংকরাচার্য মন্দিরটির সংস্কার করেন ও বদ্রিনাথের পূজারী কে এনে কেদারে পূজার প্রচলন করেন|তার আগে কেদারনাথ এ কোনো নিদ্দিষ্ট পূজারী ছিলো না, পরে পাঁচ জন পূজারী নিয়োগ করা হয়, যে পরম্পরা আজও চলছে|
চারপাশে তুষার ঢাকা পর্বত মাঝ খানে কেদারনাথ মন্দির এক অপূর্ব অনুভূতি জাগায় মনে|তবে এই অঞ্চলের তীব্র শীতের ও প্রতিকূল পরিবেশের জন্য মন্দিরটি কেবল এপ্রিল মাসের শেষ থেকে কার্তিক পূর্ণিমা অবধি দর্শনার্থী দের জন্য খোলা থাকে। শীতকালে কেদারনাথ মন্দিরের মূর্তিগুলিকে ছয় মাসের জন্য উখিমঠে নিয়ে গিয়ে পূজা করা হয়|পরে আবার নিদ্দিষ্ট সময়ে মূর্তিগুলি কেদারনাথ মন্দিরে ফিরিয়ে আনা হয়|যুগ যুগ ধরে এই পরম্পরা চলে আসছে|কেদারনাথ মন্দিরের কাছেই আছে আদি শঙ্করাচার্য্যর সমাধি মন্দির।
আজ জ্যোতির্লিঙ্গ কেদারনাথ নিয়ে এটুকুই।
ফিরে আসবো পরের পর্বে। অন্য একটি জ্যোতির্লিঙ্গের কথা নিয়ে।
আসন্ন শিব রাত্রিতে জ্যোতিষ সংক্রান্ত
প্রতিকারের জন্য যোগাযোগ করুন।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
