দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম 

6

দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – বৈদ্যনাথ ধাম

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজকের পর্বে বৈদ্যনাথ ধাম নিয়ে আলোচনা করবো। এটি দ্বাদশ জ্যোৎরলিঙ্গের অন্যতম।

এই মন্দিরটি বর্তমানে ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যের দেওঘর জেলায় অবস্থিত।

 

এই স্থান আবার একটি শক্তি পিঠও কারন শাস্ত্র অনুসারে এখানে সতীর হৃদয় বা হৃৎপিণ্ড পড়েছিল। বৈদ্যনাথ ধামে অধিষ্ঠিত দেবী জয় দুর্গা ও ভৈরব হলেন স্বয়ং শিব যিনি বৈদ্যনাথ রূপে এখানে বিরাজমান।তবে আজ শক্তি পিঠ নয় জ্যোতির্লিঙ্গ বৈদ্যনাথ নিয়ে লিখবো।

 

পুরানে আছে একবার রাবন শিবকে স্থায়ী ভাবে লঙ্কায় নিয়ে যেতে কঠোর তপস্যা করেন।নিজের অত্যান্ত প্রিয় ভক্তকে শিব আত্মলিঙ্গ অর্পণ করে লঙ্কার প্রতিষ্ঠা করতে বলেন তাকে।শর্ত ছিলো কৈলাস থেকে লঙ্কার পথে যাওয়ার সময় কোথাও যদি রাবণ শিবলিঙ্গ কে কোন জায়গায় রেখে দেন, তাহলে তিনি সেখানেই প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবেন। দীর্ঘ পথ অতিক্রম করে লঙ্কায় যাওয়ার পথে ক্লান্ত এবং তৃষ্ণার্থ রাবন এই স্থানে সেই দিব্য শিবলিঙ্গ কিছুক্ষনের জন্য নামিয়ে রাখেন আর সেখানেই শিবলিটি প্রতিষ্ঠিত হয়ে গিয়েছিল। সেই শিব

লিঙ্গই বৈদ্য নাথ রূপে এখানে বিরাজ করছে।

 

এই শিব খেত্রে শিবকে বৈদ্যনাথ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে, যার অর্থ হল যিনি সর্বরোগহারি, রামায়ণেও এই বৈদ্যনাথ

মন্দিরের উল্লেখ পাওয়া যায়।শিব পুরাণে এই মন্দিরকে দুটি আত্মার মিলনস্থল বলেও বর্ণনা করা হয়েছে।কারন এটিই একমাত্র শক্তিপীঠ যেখানে বৈদ্যনাথে শিব এবং শক্তি একসাথে বিরাজমান।

 

ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী মোঘল সম্রাট আকবরের সেনাপতি মানসিংহ এই বৈদ্যনাথ মন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন এবং দেওঘর রাজ্যের রাজা দ্বিধাউর এই মন্দির নির্মাণের কাজে অনেকখানি সহযোগিতা করেছিলেন। পরবর্তী কালে এই মন্দির একাধিক বার সংস্কার করা হয় এমনকি ব্রিটিশ আমলে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিও এই মন্দিরের রক্ষনাবেক্ষনের ভার নেয়।

 

জ্যোতির্লিঙ্গ হওয়ায় বৈদ্যনাথে বিরাট আকারে পালিত হয় মহা শিবরাত্রি।সারা দেশের শিব ভক্তদের অন্যতম প্রিয় এবং শ্রদ্ধার স্থান এই বৈদ্যনাথ ধাম এবং বাবা বৈদ্যনাথ তাদের সবার মনোস্কামনা পূরণ করেন বলেই বিশ্বাস।

 

আজকের জ্যোতির্লিঙ্গ পর্ব এখানেই শেষ করছি।

দেখা হবে পরের পর্বে থাকবে পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ নিয়ে লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।