দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ – ঘৃষ্ণেশ্বর শিব মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
তন্ত্রর কথা উঠলেই সাধারণত কালী বা দশ মহা বিদ্যার কথা ওঠে তবে শিব থেকেই তন্ত্রের সৃষ্টি।
যারা জ্যোতিষ শাস্ত্রে বিশ্বাস করেন এবং তন্ত্র মতে গ্রহের প্রতিকার চান তাদের জন্য তাই শিব রাত্রি একটি গুরুত্বপূর্ণ তিথি। সেই তিথিকে সামনে রেখে শুরু করেছি দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা।সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে আজকের পর্বে আপনাদের বলবো জ্যোতির্লিঙ্গ ঘৃষ্ণেশ্বরের কথা।
পুরান মতে এই স্থানে ঘুশ্মা নামে এক শিব ভক্ত নারী বাস করতেন শিবের আশীর্বাদে তার এক পুত্র হয়েছিলো যে পুত্রকে পরবর্তীতে চক্রান্ত করে হত্যা করে ঘুশ্মার বোন সুহেদা|ঘুশ্মা বিচলিত না হয়ে শিব সাধনা শুরু করেন ও শিব সন্তুষ্ট হয়ে তার পুত্র কে জীবিত করে দেন|শিব আরেকটি বর দিতে চাইলে ঘুশ্মা তাঁর আরাধ্য দেবতা কে অনুরোধ করেন তিনি যেন চিরকালের জন্য সেই স্থানে বিরাজ করেন|শিব সেই অনুরোধ মেনে নেন|ঘুশ্মার নাম অনুসারে এই জ্যোতির্লিঙ্গের নাম হয় ঘুশ্মাস্বর বা ঘৃষ্ণেশ্বর।
ঘৃষ্ণেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মহারাষ্ট্র রাজ্যের আওরঙ্গাবাদ থেকে ৩০ কিলোমিটার এবং দৌলতাবাদ বা দেবগিরি থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে ইলোরা গুহার কাছে অবস্থিত|অতি প্রাচীন এই জ্যোতির্লিঙ্গের উল্লেখ পাওয়াযায় শিব পুরানে|
শিবভক্ত এক উপজাতি এক সময়ে এই স্থানে বাস করতো। সেই উপজাতিদের প্রধান ঘৃষ্ণেশ্বরের কৃপায় এখানে গুপ্তধনখুঁজে পেয়েছিলেন বলে জনশ্রুতি আছে। শোনা যায় সেই টাকায় তিনি অষ্টাদশ শতাব্দীতে নির্মিত প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করান এবং একটি হ্রদ প্রতিষ্ঠা করেন|পরবর্তীতে অহল্যাবাই হোলকারও ঘৃষ্ণেশ্বরের মন্দির সংস্কার করিয়েছিলেন|
এই মন্দিরটি লাল পাথরের তৈরি। এতে পাঁচটি চূড়া দেখা যায়।মন্দিরের উপরে লাল পাথরে দশাবতারের মূর্তি দেখা যায়|চব্বিশটি সুদৃশ্য স্তম্ভ নিয়ে তৈরি হয়েছে দরবার কক্ষটি|মন্দির প্রাঙ্গনে নন্দিকেশ্বরের মূর্তিও আছে|শিবলিঙ্গ এখানে পূর্ব মুখী|প্রায় সারাবছর জনসমাগম হলেও শিব রাত্রি এখানে বিশেষ ভাবে পালিত হয় যা দেখতে দুর দূরান্ত থেকে শিব ভক্তরা আসেন।
আজ এখানেই শেষ করছি। ফিরে আসবো পরবর্তী জ্যোতির্লিঙ্গ সংক্রান্ত আলোচনা নিয়ে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
