শক্তি পীঠ – হিংলাজ

62

শক্তি পীঠ – হিংলাজ

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

প্রথম শক্তি পীঠ কোনটি এই নিয়ে বহু বিতর্ক আছে। তবে বেশিভাগের মত কে প্রাধান্য দিলে বলতে হয় মরু তীর্থ হিংলাজই প্রথম শক্তিপীঠ।পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতেও হিংলাজ পীঠস্থানটি একান্ন পীঠের প্রথম পীঠ। আজ শক্তি পীঠ হিংলাজ

নিয়ে লিখবো।

পীঠ নির্ণয় তন্ত্র মতে একান্ন পীঠের অন্যতম প্রধান পীঠ হিংলাজ। বর্তমানে এই শক্তিপীঠ অবস্থিত আমাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্র পাকিস্তানে।পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশের লাসবেলা জেলায় হিঙ্গোল নদীর ধারে এই শক্তি পীঠটি রয়েছে।

শাস্ত্র মতে রাবন কে বধ করে রামের যখন

ব্রহ্ম হত্যার পাপ হয়েছিলো তখন এই হিংলাজ শক্তি পিঠে এসে দেবীকে দর্শন করে সেই পাপ

দূর হয়েছিলো।

পাকিস্তানে হিন্দুরা ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে দেবীর প্রতি অগাধ শ্রদ্ধা এবং

ভক্তি দেখা যায় তারা দেবী হিংগুলা বা দেবী কোট্টরা কে ‘নানী’ বলে ডাকে। মন্দিরের দেবীর নামেই পুরো গ্রামটির নাম হয়ে গিয়েছে হিংলাজ গ্রাম।

শাস্ত্র মতে এই স্থানে দেবী সতীর ব্রহ্মরন্ধ্রটি পড়েছিল তাই দেবীকে এখানে “কোট্টারী”  রূপে পুজো করা হয়। দেবীর ভৈরবকে এখানে “ভীমলোচন” রূপে পূজা করা হয়।

এক সময়ে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করে মরুভুমির মধ্যে দিয়ে উটের পীঠে চেপে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে এই মন্দিরে যেতে হতো। এই কষ্ট সাধ্য যাত্রা নিয়ে একটি সিনেমাও হয়েছে যার নাম মরুতীর্থ হিংলাজ

ওই তীর্থ যাত্রাকে স্থানীয়র বলতো “নানী কি হজ “

দুর্গম অঞ্চলে একটি গুহায় দেবী ও তার ভৈরব অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সিঁড়ি অতিক্রম করে সেখানে প্রবেশ করতে হয়। একটি বেদীতে

শিলা রূপে দেবী অধিষ্টান করছেন।

এখানে সিঁদুর দানের রীতি আছে।

বাস্তবে হিংগুলা শব্দের অর্থই সিঁদুর।

বহু ভক্ত এখানে আসেন নিজের মনোস্কামনা নিয়ে এবং বিশ্বাস করেন তাদের সব দুঃখ কষ্ট দূর হবে

দেবীর আশীর্বাদে।

বালোচিস্থান এবং পাকিস্তানে বসবাসকারী হিন্দুদের তো বটেই সমগ্র বিশ্বের সনাতনীদের কাছেই হিংলাজ শক্তিপীঠ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং

পবিত্র তীর্থ স্থান।

ফিরে আসবো আগামী পর্বে। সাথে থাকবে অন্য একটি শক্তি পীঠের মাহাত্ম এবং

পৌরাণিক ব্যাখ্যা।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।