10

পুরান কথা – রাজা নিমি এবং বশিষ্ট মুনির অভিশাপ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আজ পুরাণ কথায় রাজা নিমি এবং বশিষ্ট দেবকে নিয়ে একটি পৌরাণিক কাহিনী আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি।

 

রাজা নিমি ছিলেন অত্যন্ত জ্ঞানী ও ধর্মপরায়ণ রাজা। তিনি এক দীর্ঘ যজ্ঞের আয়োজন করেন এবং ঋষি বশিষ্ঠকে সেই যজ্ঞের পৌরোহিত্য করার জন্য অনুরোধ জানান। কিন্তু বশিষ্ঠ তখন ইন্দ্রের একটি যজ্ঞে নিযুক্ত ছিলেন। তিনি নিমিকে জানান যে পাঁচশো বছর পরে তিনি এসে যজ্ঞ সম্পন্ন করতে পারবেন।

 

রাজা নিমি মনে করলেন যে বশিষ্ঠ তাঁর প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। তাই তিনি অন্য ঋষি গৌতমকে দিয়ে যজ্ঞ শুরু করলেন। পাঁচশো বছর পর বশিষ্ঠ ফিরে এসে দেখলেন, নিমির যজ্ঞ ইতিমধ্যেই চলছে। এতে তিনি ক্রুদ্ধ হয়ে রাজা নিমিকে অভিশাপ দিলেন—“তুমি আর তোমার দেহ ধারণ করবে না।”অভিশাপের সঙ্গে সঙ্গে নিমির আত্মা তাঁর দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল।

 

পরবর্তীতে যজ্ঞ সম্পন্ন হলে দেবতারা নিমির আত্মাকে পুনরায় দেহে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রস্তাব দিলেন। কিন্তু নিমি সেই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করলেন। তাঁর উপলব্ধি হয়েছিল—দেহ ক্ষণস্থায়ী, অথচ আত্মার অমর এবং শাশ্বত তাই মুক্তির আকাঙ্ক্ষা আরও গভীর।তিনি এমন বর প্রার্থনা করলেন যাতে তাঁর আত্মা সমস্ত জীবের চোখের পাতার সঙ্গে অবস্থান করে। দেবতারা তাঁর ইচ্ছা পূর্ণ করেন। চোখের পাতা বন্ধ ও খোলার মধ্যবর্তী ক্ষণকে তাই ‘নিমেষ’ নামে অভিহিত করা হয়।

 

কিন্তু নিমির দেহহীন অবস্থায় রাজ্য শাসনের সমস্যা দেখা দিল। তাঁর কোনো পুত্রও ছিল না। তখন ঋষিরা যোগ বলে নিমির ছেড়ে যাওয়া

দেহ থেকে এক পুত্রের সৃষ্টি করলেন। সেই পুত্রের নাম হয় বিদেহ আবার কোথাও তিনি জনক। পরবর্তীকালে তাঁর বংশেই জন্ম নেন দেবী সীতা যাকে বৈদেহী বা জানকী নামে ডাকা হয়।

 

আবার এমনই একটি পৌরাণিক কাহিনী

নিয়ে ফিরে আসবো পুরান কথার পরবর্তী পর্বে।পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।