কালী কথা – বিপদত্তারিনী কালী
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের কালী কথা পর্বে লিখবো
দক্ষিণ বঙ্গের রাজ পুরের বিপদত্তারিণী কালী প্রসঙ্গে।জানাবো এই কালী মন্দিরের প্রতিষ্টার কাহিনী এবং তার মাহাত্ম।
অনেকে মনে করেন বিপদতারিণী এবং পুরাণে কৌশিকী দেবী একই।যিনি বিপদ থেকে রক্ষা করেন তিঁনিই বিপদত্তারিণী।বাংলার বিপদত্তারিণী মন্দির গুলির মধ্যে এটি অন্যতম জাগ্রত এবং প্রসিদ্ধ।বর্তমানে কলকাতা সহ পশ্চিমবঙ্গে এই মন্দির চণ্ডীর বাড়ি হিসাবে পরিচিত।
দুলাল বাবা বা শ্রী দুলাল চন্দ্র দাস নামে এক মাতৃ সাধক এই পুজোর প্রান পুরুষ।শোনা যায় শৈশব থেকেই তিনি মা চন্ডীর পূজো করতেন তবে ব্রাহ্মন না হওয়ায় তাকে বড়োরা নিষেধ করতেন। একবার পূজো বন্ধ করতে তাকে নিষেধ এবং প্রহারও করা হয়। জন্যশ্রুতি আছে অলৌকিক ভাবে সেই প্রহারের চিহ্ন ফুটে ওঠে মৃন্ময়ী মাতৃ মূর্তিতে। তারপর থেকে আর কেউ তাকে পূজো বন্ধ করতে বলেন নি।
পরবর্তীতে দেবী তার এই সন্তানকে স্বপ্নাদেশ দিয়ে বিপত্তারিণী চণ্ডীর মূর্তি গড়তে আদেশ দেন।সেই থেকে রাজপুরে মা বিপত্তারিণী চণ্ডী রয়েছেন।
স্বপ্নে বর্ণিত রূপ অনুযায়ী দেবী এখানে সিংহবাহিনী, তাঁর চার হাত, এক হাতে মহাশূল, এক হাতে খড়গ ও অন্য দুই হাতে বরাভয় ও অভয় দান করছেন তিনি।
কথিত আছে পুজোর পদ্ধতিও দেবী স্বয়ং শিখিয়ে গিয়েছিলেন দুলাল বাবাকে।সেই পদ্ধতিতেই আজও পূজো হয়। পুজোর দিন একেবারে ভোর থেকেই এখানে ভক্ত সমাগম শুরু হয়ে যায়। সবাই মাকে তেরো রকমের ফল, মিষ্টান্ন দিয়ে পুজো দেন।ভক্তরা মা চন্ডীকে ভগবান ভেবে নয়, নিজের মা ভেবে সব কিছু মনে মনে জানান, মা নায্য বিচার করে সমাধান করে দেন।
প্রতিবছর আষাড় মাসে রাজপুর বিপদত্তারিণী মন্দিরে ধুমধাম করে বিপদত্তারিণী পুজোর আয়োজন হয় এবং বহু ভক্তের সমাগম হয়।
ফিরে আসবো পরবর্তী কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে।ফল হারিণী অমাবস্যা উপলক্ষে চলতে থাকবে কালী কথা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
