বাংলার ডাকাত কালী – খানাকুলের ডাকাত কালী পুজো

19

হুগলি জেলার খানাকুলে সাড়ে তিনশো বছরের বেশি পুরনো ডাকাতকালীর পুজোয় আজও
এক অভিনব রীতি পালন করা হয়।আজকের পর্বে এই বিখ্যাত ডাকাত কালী মন্দিরের কথা লিখবো |

হুগলীর খানাকুলের চক্রপুরে ডাকাতকালীর পুজো কয়েকশো বছরের প্রাচীন। কথিত আছে ৩৫৬ বছর আগে এ এলাকায় কালী ডাকাত নামে পরিচিত ছিলেন কালীচরণ মাঝি। তিনিই এ পুজোর সূচনা করেছিলেন। কালীচরণের বংশধরেরা জানিয়েছেন, এখনও পুজোর দিন মানত হিসেবে পশু বলিও হয়। পাশাপাশি মেনে চলা হয় ঘটপুজোর রীতিও। কালীপুজোর দিন রাতে কালীচরণের বংশের এক জন সদস্য প্রথম মায়ের ঘট উত্তোলন করেন। তার পর আরও একটি ঘট উত্তোলন করেন পুরোহিত। ঘট দু’টি কালীমূর্তির পায়ের নীচে বসিয়ে তার পর শুরু হয় পুজোপাঠ।

শোনা যায় নবাবী আমলে ডাকাতির পর কালীপুজোয় বসতেন কালীচরণ মাঝি এবং তাঁর চেলাচামুন্ডারা। দিন বদলেছে। কালীচরণের বংশধরেরা আজ আর ডাকাতি করেন না। তবে প্রথা বজায় রাখতে রাতের অন্ধকারে ফুল ও ফল চুরি করেন তাঁরা। সে ফুল ও ফল কালীকে নিবেদন করেই পুজো শুরু করেন।চুরি করা সামগ্রীতে হয় মায়ের পুজো|এটাই এখানকার রীতি|

আজও এই পুজোয় কালী ডাকাতের উত্তরপুরুষরা অংশ নেন পুজোয় |ডাকাতকালীর পুজোয় আরও কয়েকটি অভিনব রীতি রয়েছে|মন্দিরে চার প্রহরে চার বার পুজো-আরতি হয়। শোনা যায় ২০০ বছর আগে এই কালীপুজোকে কেন্দ্র করে এলাকায় প্রথম মেলা বসেছিল।আজও সেই মিলন উৎসব পালিত হয়|

প্রতি বছর মৌনী অমাবস্যাতেও মহাসমারোহে কালী পুজো হয় খানাকুলের ডাকাত কালী মন্দিরে|দেখতে আসেন বহু মানুষ|

চলবে ডাকাত কালী মন্দিরের কথা|ফিরে আসবো আগামী পর্বে|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|