মন্দির রহস্য -তেলেঙ্গানার নৃসিংহ মন্দিরের রহস্য

84

প্রাচীন ঐতিহাসিক মন্দির নিয়ে অনেকগুলি পর্বে আগে লিখেছি আজ একটি এমন মন্দির নিয়ে লিখবো যা তারিখের হিসেবে প্রাচীন নয় তবে একটি পৌরাণিক ঘটনার সাথে সম্পর্কযুক্ত|মন্দিরটি হলো তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রিতে অবস্থিত শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দির যে মন্দিরে শুধু প্রবেশদ্বারেই আছে ১২৫ কেজি সোনা|ঐতিহাসিক মন্দিরটির পুনর্নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিল 2016 সালে|তারপর বিস্তৃত ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান, যজ্ঞাদির পর, মন্দিরটি ফের খুলে দেওয়া হয় ভক্তদের জন্য।আগে এখানে একটি প্রাচীন গুহা মন্দির ছিলো|শ্রী লক্ষ্মী নরসিংহ স্বামী মন্দিরটি, ইয়াদাদ্রি মন্দির নামেই বেশি পরিচিত। এটি তেলেঙ্গানার ইয়াদাদ্রি ভুবনগিরি জেলার ছোট শহর ইয়াদাগিরিগুত্তার একটি পাহাড়ের উপর অবস্থিত। এই মন্দিরে নরসিংহ অবতারে পূজিত হন ভগবান বিষ্ণু। স্কন্দপুরাণ অনুসারে, মহর্ষি নারদ এখানে নরসিংহ রূপে ভগবান বিষ্ণুর তপস্যা করেছিলেন। তাঁর তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে ভগবান তাঁর সামনে নিজেকে পাঁচটি রূপে প্রকাশ করেন – জ্বালা নরসিংহ, গণ্ডবেরান্দ নরসিংহ, যোগানন্দ নরসিংহ, উগ্র নরসিংহ এবং লক্ষ্মী নরসিংহ|পাহাড়ের চূড়ায় লক্ষ্মী-নরসিংহদেব মন্দিরের প্রধান গুহায় নরসিংহের পাঁচ রূপই পাথরে খোদাই করা রয়েছে। নব রূপে মন্দিরের দরজা খোলার আগে, করা হয় ‘মহা সুদর্শন যজ্ঞ’। এর জন্য একশ একরের একটি যজ্ঞ বাটিকা এবং মোট ১০৪৮টি যজ্ঞকুণ্ডল তৈরি করা হয়েছিল। হাজার হাজার পুরোহিত ও তাঁদের সহকারীরা এই আচারে অংশ নেন। পুনর্নির্মাণে খরচ হয়েছে আনুমানিক ১৮০০ কোটি টাকা। বিশাল এই মন্দিরের একটি অন্যতম বিশেষত্ব হল এর পুনর্নির্মাণ কাজে সিমেন্ট ব্যবহার করা হয়নি। মন্দিরের পুনর্নির্মাণে ২.৫ লক্ষ টন গ্রানাইট ব্যবহার করা হয়েছে। এই গ্রানাইট পাথর অন্ধ্রপ্রদেশের প্রকাশম থেকে আনা হয়েছে।মন্দিরের প্রবেশদ্বারগুলি তৈরি করা হয়েছে পিতল দিয়ে। তার উপর সোনা দিয়ে কারুকার্য করা হয়েছে। মন্দিরের গোপুরম অর্থাৎ প্রধান প্রবেশদ্বারটিতেই ১২৫ কেজি সোনা ব্যবহার করা হয়েছে। সুদৃশ্য এই নৃসিংহ মন্দির বর্তমানে দক্ষিণ ভারতের তীর্থ ক্ষেত্র গুলির মধ্যে অন্যতম জনপ্রিয় এবং প্রসিদ্ধ যা দেখতে আসেন দেশ বিদেশের মানুষ|পরের পর্বে অন্য কোনো মন্দির রহস্য নিয়ে যথা সময়ে ফিরে আসবো|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|