শিব ভূমি -হৃদয়পুরের শিবতলার বুড়ো শিব

34

ইতিমধ্যে বহু বিখ্যাত মন্দির ও বহু শিব লিঙ্গের কথা আপনাদের সামনে এনেছি তবে আজ আর দুরে কোথাও নয়, আজ যে শিব মন্দিরের কথা বলবো তা আমার বাড়ির একদম পাশেই অবস্থিত, বলা ভালো এই শিব আমার প্রতিবেশী|আমাদের হৃদয়পুরের শিব তলায় রয়েছে এক প্রাচীন শিব মন্দির যা লোক মুখে বুড়ো শিব নামেই খ্যাত|এই মন্দির যে কতো প্রাচীন তা নিশ্চিত করে বলা কঠিন তবে এলাকার বয়স্ক মানুষদের মতামত অনুসারে এই বুড়ো শিব মন্দিরের বয়স আনুমানিক দুশো থেকে তিনশো বছর|মন্দির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস সম্পর্কে জানা যায় নদিয়ার রাজা কৃষ্ণচন্দ্র রায়ের পরিবারের এক সদস্য বঙ্কিম বিহারী রায় এই অঞ্চলে জমিদার ছিলেন এবং তিনিই এই মন্দির প্রতিষ্টা করেছিলেন|মতান্তরে তারও আগে থেকে ছিলো এই মন্দির|প্রাচীন হওয়ার পাশাপাশি অত্যন্ত জাগ্রত ও প্রসিদ্ধ এই মন্দিরের বুড়ো শিব|শুধু স্থানীয় নন গোটা জেলা এবং জেলার বাইরের মানুষও এই শিব মন্দিরের মহাত্ম এক বাক্যে স্বীকার করেন|প্রতি বছর নীল ষষ্ঠী উপলক্ষে বিশেষ পুজো হয় এখানে যা নিয়ে শিব ভক্তদের উৎসাহ থাকে চরমে এবং তারপরদিন চরক উপলক্ষে ঝাঁপ আয়োজিত হয়, সেও এক দেখার মতো জিনিস গাজন সন্ন্যাসী নিষ্ঠা সহকারে সমস্ত উপাচার পালন করেন ফল ও বাতাসা বিলিয়ে দেয়া হয় অসংখ্য ভক্তদের মধ্যে যার নাগাল পাওয়া বেশ পুণ্যের বলে মনে করা হয়|একটি প্রচলিত রীতি অনুসারে চরক উৎসবের আগে গাজন সন্যাসীরা বাদুর কুবের পুরের প্রাচীন একটি শিব মন্দিরের পুজো দিয়ে তারপর এই বুড়ো শিবের পুজোতে অংশগ্রহণ করেন|এই রীতি আজও চলছে|আলাদা করে একটি দুটি অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ না করলেও, সংক্ষেপে বলতে পারি বহু অলৌকিক ও দৈব ঘটনার সাক্ষী এই প্রাচীন শিব মন্দির যে সব ঘটনার কিছু কিছু শোনা যায় ভক্তদের মুখে|এই মন্দিরের শিবের কৃপা তার অগণিত ভক্তদের পাশাপাশি আমি নিজেও পেয়েছি|আমি নিজেও শিব তলার এই বুড়ো শিবের অসংখ্য ভক্তদের এক জন|চলবে শিব ভূমি নিয়ে আলোচনা|পড়তে থাকুন|ভালো থাকুন|ধন্যবাদ|