কালী কথা – ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি

7

কালী কথা – ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি

 

পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক

 

আসন্ন দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলছে কালী কথা।আজকের পর্ব লিখবো কলকাতার একটি প্রাচীন এবং প্রসিদ্ধ কালী মন্দির ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি নিয়ে।

 

বই পাড়ার কাছে বিধান সরনী তে অবস্থিত এই প্রাচীন কালী মন্দির যার প্রকৃত নাম সিদ্ধেশ্বরী কালী মন্দির হলেও ঠন ঠনিয়া কালী মন্দির নামেই বেশি পরিচিত|কেন এই রূপ অদ্ভুত নাম তা নিয়েও আছে একে মজার এবং অভিনব গল্প|

 

এক কালে এই অঞ্চল ছিল দুর্গম|বন জঙ্গলে ঢাকা|ছিল ডাকাতের উপদ্রব|সেই সময়ে ডাকাতরা এখানে দেবী কে প্রতিষ্ঠা করে পূজা শুরু করেছিলো|পরবর্তীতে দেবী মূর্তি কে আর সেখান থেকে সরানো যায়নি|সেই স্থানেই তৈরী হয় মন্দির|বহুকাল আগে এই মন্দিরের বিশাল আকার ঘন্টা বাজিয়ে মানুষকে সতর্ক করা হতো ডাকাতের আক্রমনের আগে|সেই ঠন ঠন ঘন্টাধ্বনি শুনে সজাগ ও সতর্ক হতো আশপাশের মানুষ|সেই থেকেই ক্রমে মন্দিরের নাম হয় ঠন ঠনিয়া কালী বাড়ি|

 

প্রচলিত জনশ্রুতি অনুসারে আনুমানিক ১৭০৩ খ্রিষ্টাব্দে উদয়নারায়ণ ব্রহ্মচারী নামে জনৈক তান্ত্রিক মাটি দিয়ে একটি সিদ্ধেশ্বরী কালীমূর্তি গড়েন এবং এই স্থানে তাকে প্রতিষ্ঠিত করে পূজা শুরু করেন|পরবর্তীতে ১৮০৬ খ্রিষ্টাব্দে শঙ্কর ঘোষ নামে জনৈক এক ধনী ব্যক্তি বর্তমান কালীমন্দিরটি নির্মাণ করেন ও দেবী সিদ্ধেশ্বরীকে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেন|বর্তমানে এখানে সিদ্বেশ্বরী কালী মূর্তির পাশাপাশি রয়েছে পুষ্পেশ্বর শিবের আটচালা মন্দির।

 

এই মন্দিরে আসতেন সাধক রাম প্রসাদ|এই কালী মন্দিরের সাথে শ্রী রামকৃষ্ণদেবের মধুর স্মৃতিও জড়িত|একাধিক বার শ্রী রামকৃষ্ণ এসেছেন এখানে|কথামৃতর বহুস্থানে এই মন্দিরের উল্লেখ রয়েছে।

 

দীপাবলি সহ একাধিক বিশেষ তিথিতে এই মন্দিরে বিশেষ পূজার আয়োজন হয় ও সেই উপলক্ষে বহু ভক্ত আসেন এখানে|প্রথা মেনে প্রতি বছর এই মন্দিরে মূর্তির সংস্কার করা হয় নবরূপে|মন্দিরের গর্ভগৃহে সিদ্বেশ্বরী মায়ের মূর্তির পাশে রয়েছে ঠাকুর শ্রী রাম কৃষ্ণের মূর্তি|বিশেষ বিশেষ তিথিতে আজও এই মন্দিরে হয় পশু বলী|

 

এই পর্ব এখানেই শেষ করছি|দেখা হবে আগামী পর্বে|লিখবো অন্য কোনো কালী মন্দিরের ইতিহাস নিয়ে। পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।