কালী কথা – হংসেশ্বরী কালী
পন্ডিত জি ভৃগুশ্রী জাতক
বাংলায় কালী মন্দিরের সংখ্যা অগণিত কলকাতায় এবং কলকাতার বাইরে জেলায় জেলায় রয়েছে বহু প্রসিদ্ধ কালী মন্দির। তেমনই এক কালী মন্দির হংসেশ্বরী কালী মন্দির।
হুগলি জেলার বাঁশ বেড়িয়াতে অবস্থিত এই প্রাচীন এবং সুবিশাল কালী মন্দিরটি|
রাজা নৃসিংহদেব ১৭৯৯ খ্রিষ্টাব্দে হংসেশ্বরী কালীমন্দিরের নির্মাণ শুরু করেন এবং তার মৃত্যুর পর ১৮১৪ খ্রিষ্টাব্দে তার বিধবা পত্নী রাণী শঙ্করী মন্দির নির্মাণ সম্পন্ন করেন|
শোনা যায়, মন্দির তৈরির পাথর আনা হয়েছিল চুনার থেকে। আর রাজস্থানের জয়পুর থেকে কারিগরদের আনা হয়েছিল। ২১ মিটার মিনারে রূপ যেন একটি ফোটা পদ্মফুল। মন্দিরের মূল চূড়ার শীর্ষে সহস্রদ্বারে রয়েছেন পরম পুরুষ শ্বেতবর্মধারী মহাদেব আর সভাগৃহের মূলধারে কুলকুন্ডলিনী শক্তিরূপ হংসেশ্বরী।
মন্দিরের প্রস্ফুটিত পদ্মের ন্যায় গঠন শৈলী এই মন্দিরের বিশেষত্ব। তাছাড়া হংস ব্রহ্মজ্ঞানের প্রতীক।মন্দিরকে কুন্ডলিনী শক্তির প্রতীকী আধার রূপে কল্পনা করা হয়।
এই মন্দিরের পুজোর বৈশিষ্ট্য হল, পুজোর দিন মা হংসেশ্বরীর মুখে মা কালীর একটি মুখোশ পরিয়ে দেওয়া হয়। যদিও পুজোর পরের দিন সেই মুখোশ খুলে নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এই নিয়ম মেনেই চলে আসছে মায়ের পুজো|
দেবী হংসেশ্বরী দর্শনের জন্য বহু সারা বছরই মানুষ আসেন দূর দূরান্ত থেকে তার পাশাপাশি এটির স্থাপত্য পরিদর্শনের জন্য বহু শিল্পী বাঁশবেড়িয়ায় আসেন|
আশা করি ভালো লাগলো আজকের পর্ব আবার ফিরবো পরের পর্বে|দীপান্বিতা অমাবস্যা উপলক্ষে চলবে কালী কথা।পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
