কালী কথা – সাত বোনের কালী পূজো

5

কালী কথা – সাত বোনের কালী পূজো

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

আসন্ন কৌশিকী অমাবস্যা উপলক্ষে শুরু করেছি

ধারাবাহিক কালী কথা। আগের একটি পর্বে আপনাদের বলেছি সাত ভাইয়ের ডাকাত কালী পূজোর কথা। আজ লিখবো বোলপুরের সাত বোনের পূজো নিয়ে।

 

এখানে সাত বোন বলতে সাত দেবী মূর্তির একত্রে পুজোকে বোঝানো হয় কারন একটি ঘরের মধ্যে সাতটি বেদিতে অধিষ্ঠিত আছেন সাতটি কালী। এবং মনে করা হয় প্রত্যেকে সম্পর্কে একে অপরের বোন।দেড়শ বছর ধরে এই পুজো হচ্ছে পূজো করেন মহিলা পুরোহিত। এখানে পূজোর পর মূর্তি বিসর্জন করা যায় না। মন্দিরের বাইরে খোলা আকাশের দেবী প্রতিমা রেখে দেওয়া হয়।

প্রকৃতির নিয়মে গলে যায় মাটি।

 

শোনা যায় একসময় এই গ্রামেই বাস করতেন লাভপুরের জমিদার পরিবারের উত্তরসুরীরা। সেই সময় এই কালীপুজোর ঘরটি ছিল নারীদের জন্য বিশেষ ভাবে সংরক্ষিত।জনশ্রুতি আছে

বহু বছর আগে এই গ্রামেই এক সাধক মা কালীর তপস্যায় রত ছিলেন। দীর্ঘ সাধনার পর একদিন চোখ খুলে তিনি দেখেন, তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে আছেন এক অপূর্ব কিশোরী। দেবী তাঁকে জানিয়েছিলেন সাত বোনকে পুজো করতে হবে। সাত দেবী একত্রে এলাকা বাসীকে সব বিপদ থেকে রক্ষা করবেন।

 

দেবী প্রতিমাগুলির রঙেও রয়েছে বৈচিত্র্য-কোনও দেবীর গাত্রবর্ণ কালো। কারও গাঢ় নীল কিংবা সবুজাভ। সাত বোনের এই রূপের পার্থক্যকেও দেবীর বিভিন্ন শক্তির প্রতীক বলেই

বিশ্বাস করা হয়।

 

পুরোনো পরম্পরা মেনে পুরুষরা সাধারণত এই পুজোয় অংশ নেন না। ঘর সাজানো থেকে মন্ত্রপাঠ মেয়েরাই সমস্ত আয়োজন করেন। প্রতি বছরই কালীপুজোর সময় এই পূজো দেখতে

বহু দর্শনার্থীদের ভিড় হয়।সাত বোনের কাছে

বহু মানুষ আসেন তাদের মনোস্কামনা নিয়ে।

 

ফিরে আসবো ধারাবাহিক কালী কথা নিয়ে

আবার আগামী পর্বে। চলতে থাকবে এই

শাস্ত্রীয় লেখা । পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।