বিপদতারিণী পূজোর তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজ বিপদতারিনী পুজো। বিপদতারিণী দেবী সঙ্কটনাশিনীর একটি রূপ যিনি দুর্গা তিনিই বিপদতারিনী।বিপদতারিনী পুজো করে ভক্তরা সুখ ও শান্তি লাভ করেন।আজ বিপদতারিণী পূজো উপলক্ষে এই বিশেষ পর্বে জানাবো এই পুজোর তাৎপর্য ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ শাস্ত্রীয় উপাচার।
সিংহবাহিনী দেবী দুর্গা কখনও অসুরনাশিনী, আবার কখনও বা মাতৃ রূপিণী। মা বিপত্তারিণী দেবী দুর্গার ১০৮ অবতারের একটি রূপ।
গ্রামাঞ্চলে বিপদতারিনী পুজো চারদিন ধরে চলে। প্রথম দিনে দেবীর “আরাধনা” করা হয়। তারপর দুই রাত্রি ধরে রাতে বাংলা লোকগান, ভজন ও কীর্তন চলে। চতুর্থ দিনে বিসর্জন হয়।পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ধাগা পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।
বিপত্তারিণী ব্রত পালনের আগের দিন হবিষ্য করার নিয়ম। না হলে নিরামিষ আহার করতে হয়।
১৩ রকম ফুল, ১৩ রকম ফল, ১৩টি পান, ১৩টি সুপারি এবং ১৩ গাছা লাল সুতোতে ১৩ গাছা দূর্বা সহযোগে ১৩টি গিঁট বেঁধে ডুরি তৈরি করতে হয়। আম্রপল্লব-সহ ঘট স্থাপন করে ব্রাহ্মণ দ্বারা নাম গোত্র সহযোগে পূজা দিতে হয়। পূজার পরে বিপত্তারিণী দেবীর ব্রতকথা শোনা পুজারই অঙ্গ।
পুজোর পর বিপদ তারিণীর নামাঙ্কিত লাল সুতোর ডুরি পুরুষদের ডান এবং মহিলাদের বাম হাতে ধারণ করাই নিয়ম।
বিপদতারিনী পুজোর সময় নিরামিষ আহার গ্রহণ করুন। গৃহ পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।এইদিনে পরিবারের কোনও সদস্যর নেশা করা উচিৎ নয়। তাছাড়া এই পূজোর দিন কাউকে কটু কথা বলা নিষেধ,অর্থ ঋণ দেয়া নিষেধ এবং কাউকে চিনি দেয়া উচিৎ নয়।
বিপত্তারিণী ব্রত সাধারাণত মহিলাদের ব্রত। এই ব্রত কমপক্ষে ৩ বছর পালন করা নিয়ম।বিপত্তারিণী ব্রত পালনে মনোবাঞ্ছা পূর্ণ হয়। সাংসারিক বিপদ থেকে রক্ষা করে জীবনে সুখ, শান্তি এবং সমৃদ্ধি দান করেন মা বিপত্তারিণী।
শাস্ত্র মেনে মা বিপদতারিনী পুজো করা ভক্তরা সুখ এবং শান্তি লাভ করে। শাস্ত্রে যেমন মা লক্ষ্মী মাকে ধন সম্পদের দেবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। তেমনি এটা বিশ্বাস করা হয় যে মা বিপদতারিনী উপাসনা করলে তিনি সকলের উপর আশির্বাদ বজায় রাখেন। একই সঙ্গে সমস্ত ঝামেলা, অর্থ সঙ্কট থেকে মুক্তি দেন। গৃহে সুখ এবং
সমৃদ্ধি লাভ হয়।
সবাইকে জানাই বিপদতারিণী পূজোর শুভেচ্ছা।
ফিরে আসবো রথ যাত্রা উপলক্ষে
ধারাবাহিক লেখা নিয়ে আগামী দিনে।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
