প্রভু জগন্নাথের ক্রোধ

5

প্রভু জগন্নাথের ক্রোধ

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

প্রভু জগন্নাথ শুধু দয়ালু এবং কোমল হৃদয় নয়। প্রয়োজনে তিনি কঠোর হতেও জানেন। আজ আপনাদের মায়া পুরের কাছের একটি জগন্নাথ মন্দিরের একটি অলৌকিক ঘটনা জানাবো যা থেকে এই বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে।

 

অনেক বছর আগে মায়া পুরের কাছে একটি জগন্নাথ মন্দির ভগ্নপ্রায় অবস্থায় ছিল, তখন গ্রামের এক কিশোর গরু চরাতে চরাতে মন্দিরের পাশ দিয়ে যেত। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে ছিল মন্দিরের ভাঙা ইট। একদিন খেলার ছলে সে একটি ইট লাঠি দিয়ে ভেঙে দূরে ছুড়ে ফেলে দেয়। বিষয়টিকে সে তেমন গুরুত্ব দেয়নি।

কিন্তু সেই রাতেই ঘটল আশ্চর্য ঘটনা। সারারাত সে ঘুমোতে পারল না। বারবার যেন একটি করুণ অথচ গম্ভীর কণ্ঠস্বর তার কানে ভেসে আসতে লাগল—

“আমার মন্দিরের ইট তুমি কেন বাইরে ফেলে দিলে?”

এই অলৌকিক আহ্বান তার হৃদয়কে গভীরভাবে নাড়া দিল। পরদিন সকালে সে ছুটে গিয়ে সেই ইটটি খুঁজে বের করল এবং যেখানে ছিল, সেখানে আবার যথাস্থানে রেখে দিল। তারপরই তার মনের অশান্তি দূর হল এবং সে শান্তি অনুভব করল।

 

প্রভু জগন্নাথের কৃপা ও মহিমা এমনই যে, তাঁর সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো বস্তুই তুচ্ছ নয়। এমনকি তাঁর মন্দিরের একটি ইটও তাঁর সম্পত্তি—যার প্রতি অসম্মান ভক্তের জীবনে অশান্তির কারণ হতে পারে।

 

এই ঘটনা আমাদের শেখায় শেখায় যে ভগবানের মন্দির, বিগ্রহ, প্রসাদ, তুলসী, ধ্বজা কিংবা মন্দিরের একটি ইট—সবই পবিত্র। ভক্তের কর্তব্য হলো সেগুলিকে শ্রদ্ধা ও ভক্তিভরে সম্মান করা। আমরা যাকে তুচ্ছ বলে ভাবি, ভগবানের কাছে

সেটিও মূল্যবান এবং যে ভক্ত ভগবানের প্রতিটি সম্পদকে সম্মান করে, তার জীবনেই নেমে আসে প্রকৃত শান্তি ও ঈশ্বরের কৃপা।

 

ফিরে আসবো আগমনী পর্বে জগন্নাথে সংক্রান্ত অন্য একটি অলৌকিক ঘটনা এবং ব্যাখ্যা

নিয়ে।পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।