জগন্নাথের অলৌকিক দর্শন

11

জগন্নাথের অলৌকিক দর্শন

 

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

 

পুরীর শ্রীজগন্নাথধাম যুগে যুগে অসংখ্য অলৌকিক ঘটনার সাক্ষী। ভক্তদের বিশ্বাস, যিনি আন্তরিক ভক্তি ভরে প্রভুকে ডাকেন প্রভু জগন্নাথ কোনো না কোনোভাবে তাঁর কৃপা প্রকাশ করেন।

তবে আজকে পুরীর নয় মায়া পুরের রাজা পুর নামক স্থানের একটি জগন্নাথ মন্দিরের একটি অলৌকিক ঘটনা জানাবো।

 

একদিন কয়েকজন ছাত্র দূর-দূরান্ত থেকে শ্রীজগন্নাথদেবের দর্শনের উদ্দেশ্যে পুরীতে পৌঁছালেন। সারাদিনের পথচলার পর তাঁরা মন্দিরে প্রবেশ করলেন। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত, তখন মন্দিরের ভেতরে আলো ছিল খুবই কম। দূর থেকে দাঁড়িয়ে তাঁরা শ্রীজগন্নাথ, বলভদ্র ও সুভদ্রার বিগ্রহ স্পষ্টভাবে দেখতে পেলেন না।

ছাত্রদের মন ভেঙে গেল। এত দূর থেকে এসেও প্রভুর রূপ দর্শন করতে না পারার কষ্টে তাঁরা নীরবে প্রণাম করে ফিরে যেতে লাগলেন। তাঁদের মনে একটাই প্রার্থনা—“হে প্রভু, যদি আপনার কৃপা হয়, তবে একবার আপনার শ্রীমুখ দর্শনের সৌভাগ্য দিন।”ঠিক সেই সময় এক আশ্চর্য ঘটনা ঘটল। হঠাৎ করেই শ্রীজগন্নাথের সম্মুখের প্রদীপের শিখা অস্বাভাবিকভাবে উজ্জ্বল হয়ে উঠল। মুহূর্তের মধ্যে মন্দিরের গর্ভগৃহ আলোকিত হয়ে গেল। ছাত্ররা বিস্ময়ে ফিরে তাকিয়ে দেখলেন—প্রভুর দিব্য মূর্তি স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। তাঁরা আনন্দে, ভক্তিতে এবং আবেগে আপ্লুত হয়ে প্রভুকে প্রণাম করলেন।

 

এই ঘটনা প্রভু জগন্নাথের করুণার প্রকাশ বলে মনে করা হয় । যখন ভক্তের হৃদয়ে থাকে নিষ্কলুষ বিশ্বাস, তখন প্রভু নিজেই অন্ধকার দূর করে তাঁর দর্শনের পথ খুলে দেন। এখানে অন্ধকার শুধু মন্দিরের আলো-স্বল্পতার প্রতীক নয়, মানুষের অন্তরের অজ্ঞানতা ও সংশয়েরও প্রতীক। আর প্রদীপের উজ্জ্বল শিখা যেন ঈশ্বরের কৃপা, যা ভক্তির আলোয় জীবনের সব অন্ধকার দূর করে দেয়।

 

এমন বহু অলৌকিক ঘটনা আছে প্রভু জগন্নাথকে

কেন্দ্র করে। ধারাবাহিক আলোচনা চলবে। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।

ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।