বাংলার কালী – কাঞ্চন ডাকাতের কালী

5

বাংলার কালী – কাঞ্চন ডাকাতের কালী

পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক

আজ আপনাদের বাংলার আরো এক ডাকাত কালীর কথা জানাবো।এই ডাকাত কালীর
পুজো হয় খানাকুলে চক্রপুরে।অনেকেই এই পুজোকে বলেন কাঞ্চন সর্দারের পুজো।

এক সময়ে ঘন জঙ্গল ও নদীনালায় ভর্তি খানাকুলের চক্রপুর ছিল কাঞ্চন সর্দারের প্রধান ডেরা। এখানেই মায়ের পুজো দিয়ে ডাকাতি করতে বেরতেন কাঞ্চন সর্দার ও তাঁর দলবল। পণ্যবাহী নৌকা ও ধনী লোকেরাই ছিলেন কাঞ্চন সর্দারের প্রধান লক্ষ্য।পেশায় ডাকাত হলেও কাঞ্চন
সর্দার ছিলেন বেজায় কালী ভক্ত তন্ত্র শাস্ত্রে পারদর্শী।

শোনা যায় ডাকাতির আগে পঞ্চমুণ্ডের আসনে বসে তন্ত্র মতে মায়ের পুজো করতেন কাঞ্চন সর্দার।পঞ্চ মুন্ডির আসন সহ সবই স্থাপিত ছিলো এই মন্দির চত্বরে। আজও জনশ্রুতি আছে যে ডাকাত সর্দার কাঞ্চনের ছিলো তন্ত্র শাস্ত্রে অগাধ পান্ডিত্য এবং নানাবিধ সিদ্ধি।

শোনা যায় ডাকাতি করে যা অর্জন হতো তা গরিব মানুষদের বিলিয়ে দিতেন।তাই সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ছিলো ব্যাপক জনপ্রিয়তা।

এককালে এই পুজোয় নরবলী দেয়া হোতো
বলেও অনেকে বিশ্বাস করেন যদিও এই সব বিতর্কিত বিষয় নিয়ে কোনো নিদ্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়না সবটাই জনশ্রুতি। তবে বলী কিভাবে বন্ধ হয় তা নিয়ে এক কিংবদন্তী প্রচলিত আছে।এবার নাকি এক ব্রাহ্মণ যুবককে অপহরণ করে বলী দিতে গিয়েছিলেন।ডাকাত দল তারপর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে বলী থেকে তারা বিরত হয় এবং সেই থেকে নরবলি বন্ধ হয়ে যায়।

আজও সব প্রথা মেনেই হয় পুজো এবং বলির হাত থেকে রক্ষা পাওয়াসেই ব্রাহ্মণ যুবকের বংশধরদের পরিবার থেকে এখনও এই পুজোয় ভেট আসে যাকে বলা হয় প্রাণরক্ষার ভেট।
প্রথা মেনে সেই ভেট অর্পণ করা হয় মায়ের কাছে।

এই কালীকে মা সিদ্ধেশ্বরী নামে ডাকা হয়
শতাব্দী প্রাচীন এই কালী পুজো নিঃসন্দেহে বাংলার অন্যতম প্রাচীন এবং গুরুত্বপূর্ণ পুজো। কাঞ্চন ডাকাতের কালী পূজো সম্পর্কে গোটা খানাকুল অঞ্চলের মানুষের মনে আছে অগাধ শ্রদ্ধা এবং ভক্তি।

ফিরে আসবো কালী কথার পরবর্তী পর্ব নিয়ে। থাকবে অনেক এমন ইতিহাস এবং
অলৌকিক ঘটনা। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।