কালী কথা – ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
গড়িয়ার কাছে বোড়াল গ্রামে অবস্থিত প্রাচীন ত্রিপুরসুন্দরী মন্দির নিয়ে আজকের কালী কথা।
এই মন্দির নিঃসন্দেহে দক্ষিণবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এবং ঐতিহ্য সম্পন্ন কালী মন্দির গুলির মধ্যে একটি।
এক সময় বোড়ালের পাশেই প্রবাহিত হতো আদি-গঙ্গা।সেই সময় দুর্গম ছিলো এই অঞ্চল।ডাকাত এবং হিংস্র জীব জন্তুর ভয়ে এদিকে সন্ধ্যের পর মানুষ আসতো না খুব একটা।এই দুর্গম স্থানেই গড়ে ওঠে ত্রিপুর সুন্দরী মন্দির।
জনশ্রুতি আছে এটিও একটি সতীপীঠ। শোনা যায় এখানে সতীর ডান হাতের তালু পতিত হয়েছিল।
তবে শাস্ত্রে তেমন প্রমান পাওয়া যায়না তাই শক্তি পীঠের মর্যাদা দেয়া হয়না।অনেকে আবার বলেন মন্দিরটি আসলে অতীতে কোনো তান্ত্রিক বৌদ্ধদেবীর । বোড়ালের দেবী মূর্তিটি দারু-নির্মিত।
বর্তমানে প্রাচীন মন্দিরটির সংস্কার করা হয়েছে।
মন্দিরে নিত্য পুজোর ব্যবস্থা আছে ।
এখানে মা ত্রিপুরেশ্বরী ছাড়াও শিবমন্দির আছে, সেখানেও নিত্যপুজো হয়।বেশ অনেকটা জায়গা জুড়ে বিস্তৃত এই মন্দিরে সাথেই আছে সংগ্রহশালা যেখানে প্রাচীন কালের বহু প্রত্ননিদর্শন রাখা আছে।এগুলি এই স্থানে আসা দর্শণার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণ।
মন্দিরের কাছেই শ্মশান। বলা হয় এই শ্মশানে চাঁদ সওদাগরের ডুবে যাওয়া সপ্তডিঙার মৃতদের সৎকার হয়েছিল।
প্রতি অমাবস্যায় এবং বিশেষ বিশেষ দিনে প্রচুর ভীড় হয় এখানে।। সকাল দশটা নাগাদ পুজো হয় এবং প্রতি সরস্বতী পুজোয় ত্রিপুরেশ্বরী মন্দিরে বিরাট মেলা বসে।বহু দর্শণার্থী আসেন সেই সময়ে।
ফিরে আসবো কালী কথা নিয়ে আগামী পর্বে। থাকবে এমনই এক প্রাচীন মন্দিরের ইতিহাস এবং অলৌকিক ঘটনার উল্লেখ। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
