প্রাচীন চক্রেশ্বর শিব মন্দির
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
চৈত্র। মাস এবং আসন্ন নীল সংক্রান্তি কেন্দ্র করে চলছে শিব সংক্রান্ত আলোচনা।সারা সপ্তাহ ধরে
শিবকে নিয়ে নানা পৌরাণিক, শাস্ত্রীয় এবং লৌকিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করছি। আজ জানাবো বাংলার এক প্রাচীন শিব মন্দিরের কথা।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলার তমলুক শহর রাজ্য তথা দেশের অন্যতম প্রাচীন শহর। যার প্রাচীন নাম ছিল তাম্রলিপ্ত নগরী। এই শহরেই আছে বহু প্রাচীন এবং ঐতিহাসিক চক্রেশ্বর শিব মন্দির।এই চক্রেশ্বর শিব লিঙ্গের উল্লেখ আছে মহাভারত সহ একাধিক প্রাচীন গ্রন্থে।কথিত আছে পান্ডবদের অজ্ঞাতবাসের সময় পঞ্চপান্ডবসহ কুন্তী ও দৌপ্রদী পুজো দিয়েছিলেন এই শিব মন্দিরে।চক্রেশ্বর মন্দির মোট চারটি শিবের লিঙ্গ দেখতে পাওয়া যায়। জানা যায় তার মধ্যে একটি স্বয়ং প্রকটিত হয়েছে। অর্থাৎ স্বয়ম্ভু।কথিত আছে বাকি তিনটি প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন যুধিষ্ঠির ভীম ও অর্জুন।তারাই পুজো শুরু করেন এই মন্দিরে। আজও সেই পরম্পরা বয়ে নিয়ে চলেছেন তমলুকের মানুষ।
চক্রেশ্বর নামের সাথেও যোগ রয়েছে মহাভারতের শোনা যায় মহাদেবের চক্রান্তের কারণেই গান্ধারী পূজা দিতে পারেনি এই মন্দিরে তাই গান্ধারী নাম রাখেন চক্রেশ্বর। তিনি এই মন্দির সংক্রান্ত একটি পুকুরকেও অভিশাপ দিয়ে বলেন যে তার জলও পুজোয় কাজে লাগবেনা। সেই পুকুরের জল আজও দূষিত এবং শুভ কাজে ব্যবহার হয়না।
বর্তমানে চক্রেশ্বর শিব মন্দিরে প্রতিদিন নিত্য পুজো হয় এর পাশাপাশি প্রতি সোমবার বিশেষ পুজো পাঠ চলে। শিবরাত্রি ও চৈত্র মাসের নীল সংক্রান্তির পূজো হয় এই মন্দিরে। সেই সময়ে অসংখ্য শিব ভক্তর আগমন ঘটে এখানে।
ফিরে আসবো শিব সংক্রান্ত আগামী পর্বে।
থাকবে শিবকে নিয়ে আরো অনেক তথ্য।
পড়তে থাকুন।ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
