শিব অবতার – নন্দীদেব
পন্ডিতজি ভৃগুর শ্রী জাতক
দেবাদিদেব মহাদেবের দুই ছায়া সঙ্গী নন্দী ও ভৃঙ্গী সর্বদা তার অনুচর রূপে তার পাশে থাকেন এবং তার সর্বাধিক বিশ্বস্ত অনুচর নন্দী হলেন তারই অংশ এবং নন্দীদেব শিবের একটি অবতার রূপেই গণ্য হন।
ভারতের বহু শিবমন্দিরের সামনে নন্দীর মূর্তিও থাকে, বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতে। তবে সে।মূর্তি সচরাচর বৃষ বা ষাঁড়ের। তবে এটা নন্দীর আসল রূপ নয়।নন্দীদেব একজন বলশালী দেবতা যার হাতে থাকে একাধিক অস্ত্র এবং সর্বদা তিনি শিবের সেবায় এবং আরাধনায় নিয়োজিত থাকেন।শাস্ত্র মতে নন্দীদেব কড়াল দর্শন। বিকটআকার। বামন আকৃতি। মুন্ডিত মস্তক এবং ক্ষুদ্র বাহু বিশিষ্ট।কুর্ম পুরান অনুসারে সুজশা নামে এক কন্যার সহিত নন্দীর বিবাহ দেন স্বয়ং মহাদেব।
আবার অনেক পুরান বিশেষজ্ঞ মনে করেন পূর্বে নন্দী মহারাজ পৃথক দেবতা হিসেবেও পূজিত হতেন পরবর্তীতে তিনি শিবের বাহন হিসেবে স্থান পান এবং শিবের অবতার হলেও তাকে শিবের বাহন রূপেই পূজো করা হয়।
শিব মহাপুরাণ মতে, নন্দী শিলাদ মুনির পুত্র। শিলাদ ছিলেন ভগবান শিবের পরম ভক্ত এবং শিবের আশীর্বাদেই নন্দীর জন্ম হয়েছিলো এবং শিব স্বয়ং তাকে চিরঞ্জীবী হওয়ার বর দেন। রামায়ণেও নন্দীর উল্লেখ পাওয়া যায় যেখানে অহংকারী রাবন কৈলাশ এসে নন্দীকে তার চেহারার জন্যে অপমান করেন ও বানর বলেন, নন্দী তাকে অভিশাপ দিয়েছিলো যে এক বানর তার পতন ডেকে আনবেন। পরে তাই হয়েছিলো। শিবের আরেক অবতার হনুমান শ্রী রামের সাথে মিলে রাবনের পতন সুনিশ্চিত করেন।
নিজের দীর্ঘ তপস্যার বলে নন্দীদেব
শিবের বাহন রূপে স্থান লাভ করেন।
ফিরে আসবো শিবের পরবর্তী অবতারের কথা নিয়ে আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন।
ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।
