শিবরাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য
পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
নমস্কার আমি পন্ডিতজি ভৃগুশ্রী জাতক
আজকের এই বিশেষ পর্বে আপনাদের শিব
রাত্রির আধ্যাত্মিক তাৎপর্য জানাবো।
জানাবো এই দিনটির শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।
যদিও শিব ভক্তরা প্রায় সারা বছরই শিব পুজো করেন তবু শিব চতুর্দশী তিথির আলাদা মহাত্ম আছে। এই তিথি শিব পুজো করে শিব কৃপা লাভ করার শ্রেষ্ঠ তিথি। কিন্তু কেনো? দুটি কারন আছে এবং সেই দুটি কারন খুঁজতে হলে আমাদের পুরানের আশ্রয় নিতে হবে।
পুরান অনুসারে এই শিব রাত্রির তাৎপর্য সব থেকে বেশি কারন এটা আদি শিব লিঙ্গের আবির্ভাব তিথি ও একি সাথে শিব পার্বতীর বিবাহের দিন। স্বাভাবিক ভাবেই এই দিন উৎফুল্ল চিত্তে থাকেন শিব এবং পার্বতী দুজনেই এবং অল্প তেই তুষ্ট হন তারা। ভক্তের ডাকে এই দিন তাই সহজেই সাড়া দেন দেবাদিদেব এবং তার শক্তি পার্বতী।
শিব পূরাণ মতে এক সময় ভগবান বিষ্ণু এবং ব্রহ্মার মধ্যে নিজেদের শ্রেষ্টত্ত্ব প্রমানের জন্য ভিষণ বিবাদ দেখা দিয়েছিল। লড়াই প্রায় বাঁধে বাঁধে। সেই সময় হঠাৎ করেই আগুনে জ্বলতে থাকা একটা কালো স্তম্ভ দুই দেবাতার মাঝে আর্বিভাব হয়। এই স্তম্ভ হঠাৎ করে এল কীভাবে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে ব্রহ্মা ঠিক করেন স্তম্ভের উপরের দিকে গিয়ে দেখবেন কোথায় এর শেষ আর বিষ্ণু দেব যাবেন নিচের দিকে। দেখবেন এর সূচনা।
সেই জ্বলন্ত তেজময় স্তম্ভ ছিলো আদি শিব লিঙ্গ।
বলা বাহুল্য দুজনেই ব্যর্থ হন। কারন শিব অনাদি এবং সনাতন। তার না আছে আদি না আছে অনন্ত। আছে শুধু অফুরন্ত শক্তি এবং তেজ।
আদি শিব লিঙ্গের সেই সেই আবির্ভাব তিথিকেই
পালন করা হয় শিব রাত্রি রূপে।
কেনো এই শিব রাত্রিতে শিব লিঙ্গে জল ঢালা হয় তার ও নিদ্দিষ্ট কারন আছে, আসলে অগুনে জ্বলতে থাকা ওই কালো থামটি ছিল আদি শিব লিঙ্গ। যার মধ্যে উপস্থিত রয়েছে এ জগতের অনন্ত শক্তি। আর এত মাত্রায় শক্তি যেখানে মজুত রয়েছে তাকে ঠান্ডা রাখতে না পারলে যে বিপদ! আর ঠিক এই কারণেই শিব লিঙ্গের মাথায় জল ঢালার প্রথা শুরু হয়। যেখানে অনন্ত শক্তি বিরাজমান সেই শক্তির উৎস স্থান কে ঠান্ডা রাখা, শান্ত রাখাই মূল উদেশ্য।
আবার লৌকিক মতে এই দিন শিবরাত্রি ব্রত এবং শিবলিঙ্গের জলাভিষেক করলে মনোস্কামনা পূর্ণ হয়। বিশেষ করে বিবাহের বাধা দুর হয়ে মনের মতো জীবন সঙ্গী লাভ হয়।সবাই আজ যথাসাধ্য শাস্ত্র মতে শিব রাত্রি পালন করুন।
আপনাদের সবাইকে শিব রাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে শেষ করছি আজকের এই বিশেষ পর্ব|সবাই ভালো থাকুন। ফিরে আসবো আগামী পর্বে। পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন ধন্যবাদ।
