শিব এবং চন্দ্র

9

শিব এবং চন্দ্র

পন্ডিতজী ভৃগুশ্রী জাতক

দেবাদিদেবের মস্তকে অর্ধচন্দ্র শোভা পায়
এর ব্যাখ্যা বিভিন্ন পুরাণে বিভিন্ন রকম।
আজকের পর্বে আসুন জেনে নেওয়া যাক শিব এবং চন্দ্রের সম্পর্ক এবং তার শাস্ত্রীয় ব্যাখ্যা।

একটি ব্যাখ্যা অনুসারে সমুদ্র মন্থনের সময় অমৃতের সঙ্গে বিষ উঠে এসেছিল যা মহাদেব নিজের কণ্ঠে ধারণ করেছিলেন। সেই তীব্র বিষ ধারণ করার ফলে মহাদেবের শরীরের তাপমাত্রা ভীষণভাবে বেড়ে যায়।সেই তাপ হ্রাস করতেই শিব মাথায় চন্দ্রকে ধারণ করেছিলেন।জ্যোতিষ মতে চন্দ্র শীতল এবং জলতত্ত্ব দিয়ে গঠিত তাই শিব শীতলতা লাভ করেছিলেন চন্দ্রের স্পর্শে।

ব্রহ্মাপুত্র প্রজাপতি দক্ষ তার ২৭ জন কন্যা অর্থাৎ ২৭ টি নক্ষত্রের সঙ্গে চন্দ্রদেবের বিবাহ দিয়েছিলেন। সেই নক্ষত্রদের মধ্যে চন্দ্রদেবের প্রিয় ছিলেন রোহিণী। বাকি কন্যারা একবার রোহিনীর বিরুদ্ধে দক্ষর কাছে দুর্ব্যবহার এর অভিযোগ করেন তাতে রেগে গিয়ে দক্ষ চন্দ্রদেবকে অভিশাপ দেন যে ধীরে ধীরে চন্দ্রের ঔজ্জ্বল্য কমে যাবে। ক্রমশঃ তাই হতে থাকে শেষে চন্দ্রদেবের মাত্র একফালি অংশই উজ্বল ছিল সেই সময়ে দেবতাদের অনুরোধে চন্দ্রকে নিজের জটায় স্থান দেন পাশাপাশি তিনি সঙ্গে চন্দ্রদেবকে বর প্রদান করেন যে ১৫ দিন চন্দ্রের উজ্বলতা হ্রাস পাবে। তবে পরবর্তী ১৫ দিনে তা আবার ফিরে আসবে। পৌরাণিক মতে, এই কারণেই প্রত্যেক মাসে চাঁদের আলোর হ্রাস-বৃদ্ধি হয়।

আবার শিব পুরাণে অনুসারে সতীর দেহ ত্যাগের পর ক্ষুব্ধ মহাদেবের ক্রোধ শান্ত করতে বিষ্ণু নিজের সুদর্শন চক্র দিয়ে সতীর দেহ ৫১টি অংশে খণ্ডিত করে দেয়ার পর শিবের ক্রোধ কিছুটা কমলেও রুদ্রতেজ পুরোপুরি শান্ত হয়নি হয়নি। সেই তেজ কমানোর উপায় খুঁজতে দেবতারা ব্রহ্মার স্মরণে যায়। ব্রহ্মা তাঁদের একটাই উপান বলেছিলেন, তা হল অমৃতের কলস এবং ষোলকলাময় চন্দ্র।অমৃত পান করে শান্ত হলেন মহাদেব কিন্তু কলসে থাকা চন্দ্র তার হাতের আঘাতে দ্বিখণ্ডিত হলো।অমৃত পান করে প্রসন্ন এবং শান্ত হয়ে চন্দ্রকে পুনরায় ষোলকলা ফিরে পাওয়ার বর দিলেন শিব এবং নিজের মাথায় ধারণ করলেন।তারপর থেকেই মহাদেবের মাথায় শোভা পায় অর্ধচন্দ্র।

শিব রাত্রি উপলক্ষে চলতে থাকবে শিব নিয়ে আলোচনা।আগামী পর্বে আবার কোনো নতুন বিষয় নিয়ে আসবো আপনাদে সামনে|মনে রাখবেন শিব রাত্রি এবং সোমবতি অমাবস্যা
গ্রহ দোষ খন্ডনের আদর্শ তিথি।
পড়তে থাকুন। ভালো থাকুন। ধন্যবাদ।